খুলনায় সকাল সকাল আ’লীগের ঝটিকা মিছিল

# প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংবাদ সম্মেলন #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার জিরো পয়েন্টে ঝটিকা মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, খুলনা জেলা শাখা’র ব্যানারে এই মিছিল হয়। এদিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আ’লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি বিকেল সাড়ে ৩টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনায় এটাই আওয়ামী লীগের প্রথম কোনও কর্মসূচি। ওই মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি আছে। এ সময় ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’, ‘শেখ হাসিনা ফিরবে আবার বীরের বেশে’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘ওপর থেকে নির্দেশনা ছিল মিছিলে পরিচিত কোনও মুখ থাকবে না। এ কারণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অপরিচিত নেতাকর্মীদের দিয়ে মিছিল করানো হয়েছে।’ হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল বাশার বলেন, ‘হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমেই কিছু লোক আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে গেছেন। সকালের দিকে রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। পুলিশ মিছিলকারীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছে।’ এদিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামীলীগ এর খুলনায় ঝটিকা মিছিল ও প্রশাসন এর নিরব ভূমিকার প্রতিবাদে প্রেস ব্রিফিং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এন.সি.পি.) খুলনা। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই ২০২৪-এর গণআন্দোলনে শহীদ হওয়া আমাদের অগ্রণী যোদ্ধা আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম সহ সকল শহীদদের, যাঁরা এই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সম্প্রতি খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি-দেশের ইতিহাসে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে মিছিল করেছে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের হাতে প্রায় দুই হাজার নাগরিককে হত্যার রক্ত লেগে আছে ও হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। ৫ই আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে খুনি হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করার ৮ মাসের মধ্যে এই সন্ত্রাসী সংগঠনের দেশব্যাপী সিরিজ কর্মসূচি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অস্তিত্বে বারবার আঘাত হানার অপচেষ্টা। ছাত্রজনতা এই অপচেষ্টাকে এবার কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রজনতা রাজপথে অবস্থানকালে এই সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাস্তায় নামতে সাহস পায়নি। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ছাত্রজনতা নিজ কাজে ফিরে যাওয়ার পর দেশবাসী প্রায়শই এমন অরাজকতার শিকার হয়েছে। ৮ মাস পূর্বে যে জিরো পয়েন্টে ছাত্ররা রক্ত দিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ মীর মুগ্ধের তোরণের সন্নিকটে পরাজিত শক্তির এমন আস্ফালন আমাদের পীড়া দেয়। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা ও নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ ও নিন্দনীয়। এটি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়, বরং গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থায় নিয়োজিত প্রশাসনের দুর্বলতার প্রতিফলন। আমরা আরও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আওয়ামী লীগের ক্ষমতার কেন্দ্র শেখ বাড়িকে গুড়িয়ে দিতে খুলনাবাসী বিন্দুমাত্র কালক্ষেপন করেনি, আমরা যদি বাংলাদেশের বুকে আবারও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতা লক্ষ্য করি তাহলে দেশের মাটিতে ছাত্রজনতা আবার জুলাই ফিরিয়ে আনবে, যার সূচনা হবে খুলনা থেকে। আমরা খুলনার প্রশাসনের নীরবতার যথাযথ ব্যাখ্যা দাবি করছি। একইসঙ্গে আমরা দেশের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানাই-মতপার্থক্য ভুলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তুলতে হবে। একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্যের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই অপশক্তিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে তারা বারবার সুযোগ নিচ্ছে, ইতিহাস বিকৃত করছে, এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ ধরণের অবস্থান যে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার চেতনার জন্য মারাত্মক হুমকি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গণতন্ত্র, জুলাই অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধকে যারা ধারণ করেন, তাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। ইন্টারিম কে হুশিয়ার করে দিতে চাই আপনারা যদি অতি দ্রুত এই সন্ত্রাসী সংগঠন কে নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগ না নেন তবে তীব্র আন্দোলন এর মূখোমূখি হবার জন্য প্রস্তুতি নেন! আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করুন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাহাত ও আব্দুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় ্এনসিপির সাইফুল ইসলাম, রেজাউল, সোহাগসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা নগরীর চারটি স্পটে আ’লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়েছেন। খুলনায় আ’লীগের ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছে সাইফুল ইসলাম সাইফ নামের এক ছাত্রলীগ নেতা বলে তারা দাবি করেছেন। নগরীর বয়রা মহিলা কলেজের সামনে রবিবার বিকেল সোয়া ৩টায় খালিশপু থানা যুবলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ কর্মী মোঃ রাব্বিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া মজিদ স্মরনীতেও দুপুরে আ’লীগ ঝটিকা মিছিল করে। অন্যদিকে খুলনার সাতরাস্তামোড়ে আ’লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানাগেছে। তবে ময়লাপোতা মোড় থেকে দু’ যুবলীগ কর্মীকে জনতা ধরে পুলিশে দেয়।



