খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে তোলপাড়

# তবুও নিয়োগ দিয়ে যেতে মরিয়া ভিসি! #
# তদন্তের নামে অভিযুক্ত ভিসিই গঠন করলেন নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা কমিটি
# ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ
# ২ মে পর্যন্ত ভিসি’র চাকুরির মেয়াদ তার আগেই নিয়োগ নিয়ে মরিয়া তিনি
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধির একাধিক শর্ত ভঙ্গ করে বিশেষ সুসম্পর্কের একজন মহিলা প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে যাওয়ার যে পায়তারা খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. মাহবুবুর রহমান শুরু করেছিলেন, সেটি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধন, ঝাড়ুমিছিল, সুপ্রিম কোর্ট এডভোকেটের লিগ্যাল নোটিশ, সিন্ডিকেট সদস্যদের সম্মিলিত বিরোধিতা কোন কিছুই তাঁকে থামাতে পারছে না!
ভিসির মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে বিশেষ সুসম্পর্কের সেই প্রার্থীকে উচ্চতর পদে নিয়োগ দিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রতিটা পদক্ষেপে একাধিক আইন ও বিধি ভঙ্গ করেছেন, যা ইতোপূর্বে খুলনার বহুল প্রচারিত পত্রিকা “দৈনিক প্রবাহ” তে প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনের জন্য মাত্র ১০ কর্মদিবস সময় প্রদান করা, আবেদনের শেষ তারিখ ছুটির দিনে রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য গচছ এর শর্তাবলী বিশেষ প্রার্থীর জন্য বিধিবহির্ভূতভাবে শিথিল করা, ৪ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক হলেও সেটি সেই প্রার্থীর জন্য শিথিল করা, নিয়োগ কমিটিতে ভিসির আশীর্বাদপুষ্ট সদস্যদের রেখে বিভাগীয় প্রধানকে বাদ দেওয়া ইত্যাদি।
উক্ত নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফয়েজ ও দুর্নীতি দমন কমিশন এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জনাব ফিরোজ সরকার, ভিসি ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৭জন সিন্ডিকেট সদস্যকে একটি লিগাল নোটিশও প্রেরণ করা হয়েছিলো। যার জেরে গত ১৬ এপ্রিল তড়িঘড়ি করে ডাকা সিন্ডিকেট সভায় অধিকাংশ সদস্যই এই অবৈধ নিয়োগের বিরোধিতা করেন। কিন্তু এতো কিছুর পরেও সাবেক স্বৈরাচারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই ভিসি পিছু না হঠে যেকোনভাবেই হোক, সেই বিশেষ প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন! জানা গেছে ১৬ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভার সদস্যরা বেআইনী এই নিয়োগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও ভিসি কৌশলে অনিয়মের বিষয়ভার উদঘাটনের জন্য পছন্দের লোকদের নিয়ে লোক দেখানো একটি তদন্ত কমিটির আশ্রয় নিয়েছেন। কোন অনিয়ম হয়নি, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এমনটি প্রতিষ্ঠা করতে ইতোমধ্যে তিনি রুদ্ধদ্বার কক্ষে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও সংবিধি ছাড়াও সরকারি বিধি ও প্রজ্ঞাপন তিনি এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু সেটাকে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে জায়েজ দেখিয়ে আগামী ৩ মে তার মেয়াদ শেষের আগে যেমন করেই হোক, সেই মহিলা প্রার্থীকে তিনি নিয়োগ দিয়েই যাবেন; এটাই যেন পণ করে আছেন ভিসি ডা. মাহবুবুর রহমান! এ ব্যাপারে গতকাল মুঠোফোনে কথা হয় ভিসি মাহবুবুর রহমান এর সাথে। তাকে প্রশ্ন করা হয় গত সিন্ডিকেট সভায় জাকিয়া সুলতানার নিয়োগ এজেন্ডা বাস্তবায়ন কি হয়েছে তিনি বলেন, ‘না হয়নি’। মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবীর পাঠানো লিগাল নোটিশ, দৈনিক পত্রিকাগুলিতে আপনার পদত্যাগের বিষয়ে ঝাড়– মিছিল, সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধন সত্বেও আপনি তড়িঘড়ি করে জাকিয়া সুলতানার নিয়োগ সম্পন্ন করতে চলেছেন আপনার চাকরির মেয়াদ আর কতদিন আছে। তিনি জানান, ২ মে আমার শেষ কার্যদিবস। সংবাদ ও লিগাল নোটিশের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি কতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে? তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি নয় ৩ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছি। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।” তার বক্তব্য থেকেই পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যিনি চোর তিনিই বিচারক। তড়িঘড়ি করে কমিটি রিপোর্ট পেশ করে তার পক্ষে নিয়ে জাকিয়া সুলতানার নিয়োগ দিয়ে যাবেন তিনি এটাই তার একমাত্র লক্ষ্য।



