স্থানীয় সংবাদ

খুলনার পাড়া-মহল্লায় চাঙ্গা মানহীন আইসক্রীম!

# নগরীতে যত্রতত্র অবাধে বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মানহীন আইসক্রীম #
# পেটের পীড়াসহ বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সচেতন মহলের

মো. আশিকুর রহমান ঃ গ্রীষ্মকালের তাপদাহ্ েঅস্থির হয়ে উঠছে চারিদিক, চারপাশ। রোদের প্রখারতার কারণে চরম গরমের অনুভূতি হচ্ছে। এমন তীব্র গরমে সাময়িক স্বস্তি পেতে তৃষ্ণা মেটাতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষেরা দৌড়ে গিয়ে হাতে তুলে নিচ্ছে হিম ঠান্ডা বরফ মিশ্রিত লেবুর শরবত, আখের রস বা কোমল পানীয়। তবে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীরা নগরীর স্থানীয় দোকান গুলো হতে ৫ টাকা দরে কিনছেন মানহীন নাম মাত্র আইসক্রীম। ওই মানহীন নাম মাত্র আইসক্রীমের তালিকায় রয়েছে টিউবের মিষ্টি দই ও রং মিশ্রিত ললী নামের আইসক্রী। যে কারণে এই তীব্র গরমে এসব মানহীন আইসক্রীমের ব্যাপক কদর বেড়েছে। ওই সুযোগ এসব মানহীন নাম মাত্র আইসক্রীম গুলো ইতোমধ্যে খুলনা নগরীতে চাঙ্গা দিয়ে ওঠেছে। নগরীর স্থানীয় পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে হরহামেশা বিক্রি হচ্ছে এসব আইসক্রীম। যার গায়ে খুচরা মূল্য, মেয়াদ বা উৎপাদন তারিখ বা ব্যাচ নম্বরও নাই। এসব মানহীন নাম মাত্র আইসক্রীমগুলিতে চরম স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতন মহল এসব মানহীন আইসক্রীমের উৎপাদনের কারখানা গুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনসহ বাজারজাত বন্ধের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্রে জানা যায়, সাধারণত একটি মানসম্পন্ন আইসক্রীম তৈরীতে দুধ, চিনি, ভেজিটেবল ফ্যাট, কোকোনাট অয়েল, স্ট্যাবিলইজার, ফুড কালার, ফুড ফ্লেবার ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এর বিপরীতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুপিসারে বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন অধিদপ্তর, স্যানেটারি বিভাগ ও প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী এসব মানহীন আইসক্রীমের বাজারজাতকরণ অব্যহত রেখেছে। মৌসুম ভিত্তিক এক শ্রেনীর অসাধু আইসক্রীম বিক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান ওইসব অনুমোদনহীন নিন্মমানের আইসক্রীম উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। উৎপাদিত ওইসব নামমাত্র আইসক্রীমের উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘনচিনি, স্যাকারিন, নিন্মমানের কালার, সুইটিক্স ও ফ্লেভারসহ নানা রাসায়নিক। যার তালিকায় রয়েছে কুলফি, রোবো, আইসবার, লেমন বা অরেজ্ঞললি, লেমন ললি, মিষ্টি দইসহ হরেক নামের আইসক্রীম। উৎপাদিত আইসক্রীম গুলো আকর্ষনীয় করতে ব্যবহৃত করা হচ্ছে বেনামী লেবেল বা কোম্পানির মোড়ক। ওই সব মড়কের গায়ে নেই উৎপাদন বা মেয়াদর্ত্তীনের তারিখ, নেই ব্যাচ নং বা নির্ধারিত মূল্য। রাসায়নিক প্রয়োগে উৎপাদিত ওইসব মানহীন আইসক্রিম স্বাস্থ্যর জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিভাবক রাবেয়া খাতুন জানান, যে গরম পড়া শুরু করেছে, কোথাও স্বস্তি মিলছেনা। বাচ্চা দৌড় মারছে দোকানে, হাতে নিয়ে ফিরছে স্বস্তা আইসক্রীম। নিয়ন্ত্রন করতে পারছিনা, কারণ ঘরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাছাড়া সব সময় তো হাতে টাকা থাকেনা যে নামিদামি কোম্পানীর আইসক্রীম কিনে দেব। অভিভাবক হিসাবে আমার কিছু করার নাই। কারণ আমি আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়, ক্ষতি জানা সত্ত্বেও কিনে দিতে হচ্ছে। পথচারী সোহেল রানা জানান, আইসক্রীম বাচ্চাদের খাওয়ানোই ঠিক না। তবুও বাইনা ধরলে দিতেই হয়। তবে কিনে দিলে ভালো মানের আইসক্রীম দেওয়া উচিত। দুঃখ জনক বিষয় গরম আসলেই ভেজাল ও মানহীন আইসক্রীমের আনা গোনা দেখা যায়। যে সকল প্রতিষ্ঠান মানহীন আইসক্রীম উৎপাদন করে থাকে, প্রশাসনের উচিত ওই সকল প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া। কারণ শিশু খাদ্যের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। শিশু রোগ ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ গাজী মেডিকেল ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. বরকত আলী জানান, যে কোনো ধরনের আসক্রীমই শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শিশুদের অস্থিমজ্জার ক্ষতি হতে পারে, একই সাথে কিডনি ও লিভারসহ পেটের পীড়াদায়ক রোগের দেখা দেয়। শিশুদের মানসিক বিকাশে চরম ক্ষতির প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের আইসক্রীম বা ঠান্ডাজাতীয় খাবার হতে বিরত রাখার পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞ। বিএসটিআই খুলনার উপপরিচালক প্রকৌশলী রহিমা তালুকদার রেজা জানান, বিএসটিআই খুলনা নিয়মিত অনুমোদনহীন, মানহীন, ভেজাল পন্যের উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। অনুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুমোদনহীন এবং গুণগতমানের নিচে কোনো আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজারজাত করলে ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে ওই সকল অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনা নিত্যপণ্যের বাজার তদারকীসহ অনুমোদনহীন, মানহীন, ভেজাল পন্যের উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যহত আছে। যেহেতু খুলনার মানহীন ভেজাল আইসক্রীম বিক্রির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button