সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে ছাত্রদলের শাহবাগ অবরোধ

সাদা দলের ৪৮ ঘণ্টা আল্টেমেটাম
প্রবাহ রিপোর্ট : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদে ও মূল হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার বিকেল পৌনে চারটার দিকে তারা শাহবাগ অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শাহবাগ অবরোধ করে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ প্রভৃতি স্লোগান দিচ্ছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে অবস্থান নিয়েছেন। নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ের সড়কে বসে পড়েছেন। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে শাহরিয়ার হত্যার ‘প্রকৃত’ আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন। গত শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছিল, শাহরিয়ার আলম সাম্যর হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদে এবং মূল হত্যাকারীসহ সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে এই সমাবেশ হবে। পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নিহত হন। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় গত বুধবার সকালে নিহত শাহরিয়ারের ভাই শরীফুল আলম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। গ্রেপ্তার তিনজনকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সাম্যের ‘প্রকৃত খুনিকে’ ধরতে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিল সাদা দল
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের ‘প্রকৃত খুনিকে’ খুঁজে বের করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বলেছেন, “আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি সাম্য হত্যার প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করা না হয়, তাহলে আমরা আরো জোরালো আন্দোলনে যাব।” গতকাল রোববার বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। অধ্যাপক মোর্শেদ বলেন, “সাম্য মারা যায়নি, হত্যা করা হয়েছে। সাম্য হত্যার আজ পাঁচ দিন পূর্ণ হল। এই পাঁচ দিনে আমরা একটি আইওয়াশ এরেস্ট দেখেছি, যা আমরা মানতে বাধ্য না। “সাম্য হত্যার প্রকৃত হত্যাকারী কে সেটি বের করার জন্য আমরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।” সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় গত ১৫ মে রাতে ছুরিকাঘাতে আহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)। রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাম্য এফ রহমান হলের ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলেছে, তারা সবাই ‘বহিরাগত’। অধ্যাপক মোর্শেদ বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করব না। সাম্য হত্যার মোটিভকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে চাচ্ছে একটি গ্রুপ। আগে সাম্য হত্যার বিচার হবে তারপর আমরা অন্য আলাপ করব। “গত ২ মাস আগে প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যারও বিচার হয়নি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে অনেক হত্যা হয়েছে। বিচার হয়নি। আমি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব সাম্য হত্যার বিচার থেকে শুরু করেন।” সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এই নয় মাস সংস্কারের বুলি আওড়াচ্ছে সরকার। কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখতেছি না। শুধু গুম, খুন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। কোনো রকমের সিকিউরিটি সরকার দিতে পারছে না। “সরকারকে বলব, আগে দেশকে ভালোবাসেন। দেশের জন্য কাজ করেন। খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো সরকার টিকতে পারেনি। আপনারাও পারবেন না। দেশের জন্য কাজ করেন আমরা সবাই আপনার পাশে থাকব। দেশের জন্য কাজ না করলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।” সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, “সাম্য হত্যার বিচার চাই আমরা। আর কোন অগ্রগতি দেখছি না। শুধু দেখছি মিছিল মিটিং। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কোনো মিছিল মিটিং ও পার্কিংয়ের জায়গা হবে সেটা আমরা চাই না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ব্যবস্থাপনা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্ডারে আনা হোক।”



