খুলনাসহ ৮ জেলায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে

১১ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩১ হাজার জরিমানা
# নিয়মবর্হিভূত বেচাকেনা করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের হুঁশিয়ারী #
# জনস্বার্থে অভিযান অব্যহত রাখার আশ^াস সংশ্লিস্টদের #
মো. আশিকুর রহমান : খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২ জুন) ভোক্তা অধিকারের ৮ টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি পাশাপাশি ও জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার নূর নগর মসজিদ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দারুন অনলাইন শপকে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণ কে প্রতারিত করা ও যথাযথ পন্য সরবরাহ না করার অপরাধে ১ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার জোড়াগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে কবির মেসার্স মৃধা স্টোরকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার দৌলতপুর বাজার ও পাবলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুচনা ফার্মেসিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৪ হাজার টাকা এবং তৃষ্ণা সুইটস এন্ড বেকারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্যে উৎপাদন করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে সদর উপজেলার ভয়না মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে মেসার্স রবিউল স্টোরকে ১ হাজার ও মেসার্স নাহার স্টোরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার চৌঢ়হাস বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রান্নাঘর হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার রূপগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স কুন্ডূ স্টোরকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকার ফুডসকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে দামুড়হুদা উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স রাব্বি স্টোরকে ৩ হাজার টাকা ও মেসার্স সিহাব স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযানে ১১ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার বাজারে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।



