আফ্রিদির নেতৃত্বে পিটিআইয়ের লংমার্চ পঞ্চম দিনে : সোয়াবিতে ‘বড় চমক’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ পঞ্চম দিনে পেশোয়ারে পৌঁছেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পেশোয়ারের হায়াতাবাদ টোল প্লাজায় পৌঁছান দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সোয়াবিতে ‘বড় চমক’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ খবর জানিয়েছে ডন। গত ৪ অক্টোবর লাক্কি মারওয়াত থেকে লংমার্চ শুরু হয়। শুরুতে রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে কর্মসূচির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, লংমার্চের পরবর্তী গন্তব্য চারসদ্দা ও সোয়াবি। সেখানে পৌঁছে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করার কথা রয়েছে সোহেল আফ্রিদির। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার পর পিটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বহরটি পেশোয়ারের হায়াতাবাদ টোল প্লাজায় পৌঁছেছে। এ সময় সেখানে অপেক্ষমাণ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক তাদের স্বাগত জানান। টোল প্লাজায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে সোহেল আফ্রিদি বলেন, তাদের এই আন্দোলন প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য। সংগ্রামে কিছুটা কষ্ট সহ্য করতে হলেও কারাগারে ইমরান খান যে যন্ত্রণা ভোগ করছেন, তার তুলনায় এই কষ্ট কিছুই নয়। ইমরান খানের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও তারা পিছপা হবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে আফ্রিদি জানান, চারসদ্দায় গিয়ে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেওয়া হবে। মূল চমক অপেক্ষা করছে সোয়াবিতে। সেখানে পৌঁছালে তার পরিকল্পনা শুনে সমর্থকরা উচ্ছ্বসিত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান বলেছেন, তার দল কখনো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেনি। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় নীতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার লংমার্চের পরবর্তী গন্তব্য চারসদ্দায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। গওহর খান অভিযোগ করেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলমন্ত্রী ফজল শাকুর এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য ফজল মোহাম্মদ খানকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ফজল শাকুর নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পার হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবার কিছু জানতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তাদের সন্ধান বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান পিটিআই চেয়ারম্যান। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনারও বিরোধিতা করেন গওহর খান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। জনগণের রায় এবং নির্বাচিত সরকারকে সম্মান জানাতে হবে। সন্ত্রাসবাদকে পাকিস্তানের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান কিংবা সিন্ধু দেশের যেকোনো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না বাড়িয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপে বসতেও পিটিআই প্রস্তুত বলে জানান গওহর খান। চলমান পরিস্থিতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। গওহর খান আরও জানান, ১০ অক্টোবর মারদানে এবং ১১ অক্টোবর সোয়াবিতে সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এরপর দলের নেতৃত্ব পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। লংমার্চকে কেন্দ্র করে পেশোয়ারের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত থেকে মোবাইল ও সেলুলার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটির (পিটিএ) এক কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে এ সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বৃহস্পতিবার পেশোয়ারের কয়েকটি বেসরকারি স্কুল বন্ধ থাকলেও অনেক অভিভাবক তা জানতে পারেননি। মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় সন্তানদের স্কুলে নিয়ে গিয়ে বন্ধ ফটক দেখে ফিরে আসতে হয় তাদের। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে বেসরকারি স্কুলগুলোর প্রধানদের চিঠিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন পেশোয়ার হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা জহির খানের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার কাছে জবাব চেয়েছেন। প্রধান বিচারপতি এস এম আতিক শাহ ও বিচারপতি এজাজ খানের বেঞ্চে আবেদনের শুনানি হয়। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দেওয়া এক রায়ে আদালত সরকারি যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও জনবল কোনো প্রতিবাদ, সমাবেশ, লংমার্চ বা রাজনৈতিক কর্মকা-ে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে লাক্কি মারওয়াত যাওয়ার জন্য সরকারি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন সোহেল আফ্রিদি। সেখানে গিয়ে তিনি পিটিআইয়ের লংমার্চে অংশ নেন এবং নেতৃত্ব দেন। আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এম ইয়াসিন রাজা খান আদালতে যুক্তি দেন, হেলিকপ্টার ব্যবহারের সঙ্গে পাইলট, কর্মী, জ্বালানি, কারিগরি সহায়তা ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদের ব্যবহার জড়িত। তার দাবি, এভাবে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী আদালতের আগের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছেন। আবেদনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমোদন, উড্ডয়নসংক্রান্ত নথি ও ব্যয়ের হিসাব তলবের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম মুলতবি করেন।



