দিঘলিয়ার ভৈরব নদের কয়লা ভর্তি বাল্কহেড ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

সৈয়দ জাহিদুজ্জামান দিঘলিয়া খুলনা থেকে ঃ খুলনার দিঘলিয়ার ভৈরব নদে চাঞ্চল্যকর কয়লা ভর্তি বাল্কহেডে সশস্ত্র ডাকাতি এবং কর্মচারীদের মারধর ও জিম্মী ঘটনার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত সদস্য ও পর্দার আড়ালে থাকা রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ছিনতাই হওয়া কয়লা ভর্তি বাল্কহেড উদ্ধারকালে ৪ আসামী গ্রেফতার হলেও পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ অপরাধীরা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঐদিন যাদের উদ্ধার করেছিল তাদেরকে খুলনা নৌ থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দিঘলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে কেউ কেউ বলছে পুলিশ সন্দেহজনকভাবে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করার পর অজ্ঞাত কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সকালে মোংলা থেকে যশোরের নোয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ১০৮ টন ২০০ কেজি কয়লা ভর্তি বাল্কহেডটি। উক্ত কয়লা ভর্তি বাল্কহেডটি দিঘলিয়ার কাটাবন সংলগ্ন ভৈরব নদে পৌঁছালে ১০/১২ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাতদল দেশী অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে একটা ট্রলার যোগে এসে বাল্কহেডের গতি রোধ করে এবং বাল্কহেডে উঠে স্টাফদের মারধর করে। তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা, মালামাল ও মোবাইল ফোনসহ ৬ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয় এবং আরো টাকা দাবী করে। এক পর্যায়ে তারা দৌলতপুর বাজার অতিক্রম করলে বাল্কহেড থেকে ৩ কর্মচারিকে নামিয়ে লাখোহাটি গ্রামের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ হানা দিলে অপহৃত কর্মচারীদের ফেলে দিয়ে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। অপর দিকে খুলনা নৌ থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ডাকাতি হওয়া বাল্কহেডটি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে স্পিডবোট নিয়ে ছুটে চলে এবং কালিয়া নৌ ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় বড়দিয়া নামক স্থান থেকে ৫৫ টন লুন্ঠিত কয়লা ও কয়লা ভর্তি বাল্কহেড উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নৌ থানা পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাকৃতরা হলো- (১) মুস্তাকিন বিশ্বাস (৩৮), (২) সুমন শেখ (২৮), (৩) জসিম শেখ (৪৪) এবং (৪) চন্দন শীল (৩০)। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানায় ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ২৮ তারিখ ১৮/৫/২০২৫ ইং। ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২।
এদিকে দিঘলিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার হওয়া লোকদের নৌ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশের একটা সূত্র বলছে ঘটনার সাথে খুলনা শহর, দিঘলিয়া এবং কালিয়া উপজেলার ২ শতাধিক সদস্যের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত।
অপরদিকে এ ঘটনার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত ডাকাতদলের অন্যান্য সদস্য ও তাদের সাথে জড়িত পর্দার আড়ালে থাকা পৃষ্ঠপোষকতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দিঘলিয়া থানা কাদের গ্রেফতার করল এবং কাদের ছেড়ে দিল এবং কেন ছেড়ে দিল তা জানা যায় নি।
এ ব্যাপারে দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীন এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেছিলাম পরবর্তীতে উদ্ধারকৃতদের খুলনা নৌ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। খুলনা মেট্রো নৌ সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বাবুল আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জন জেল হাজতে আছে। তাদের স্বীকারোক্তি ও এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে জোর তদন্ত অব্যাহত আছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।



