জাতীয় সংবাদ

দেশের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অপপ্রচার না করার আহ্বান নৌ-উপদেষ্টার

প্রবাহ রিপোর্ট : নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের পোর্ট। চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের সম্পত্তি। এটা আমাদের কাছেই থাকবে। যদি কেউ অন্যভাবে অপপ্রচার করে থাকে আমি আশা করব দেশের স্বার্থে এ ধরনের অপপ্রচার যেন না করে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে বিদেশি অপারেটরের সম্পৃক্ততা নিয়ে সম্প্রতি যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেন, কিছু মহল বলে বেড়াচ্ছে, আমরা বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছি। এটা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক মানের বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ অপারেটরদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। আমরা সামনের দিকে যেতে চাই। আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেতে চাই। আমরা নিজেদের মধ্যে পড়ে থাকতে চাই না। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বন্দরে আন্তর্জাতিক মানের কেমিক্যাল শেড উদ্বোধন করেন। উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত বলেন, এনসিটি নিয়ে আপনারা বহুত আলোচনা শুনেছেন। আমিও এখানে টেকওভার করার পর থেকে আলোচনাগুলো শুনছি। ১৭-১৮ বছর যারা এনসিটিতে ছিলেন আমি বলবো যে ভালো কাজই করেছেন। খারাপ করেননি। তারা তাদের মতো কাজ করেছেন। কিন্তু তাদের থেকে আরও বেশি ইফিশিয়েন্ট করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এখানে যে কনটেইনার লোড হচ্ছে তা সিঙ্গাপুর যাবে। ট্রান্সশিপমেন্ট হবে। সিঙ্গাপুরে বেশিরভাগ পোর্টই প্রাইভেটলি পরিচালনা হচ্ছে। আমাদের যদি ইফিশিয়েন্সি বাড়াতে হয় তাহলে বাইরের টেকনোলজিস আনতে হবে। নিজেরা নিজেরা করছি। নিজেরা অনেক ইফিশিয়েন্টলি করছি। এ ইফিশিয়েন্সি বাড়ানোর জন্য আমাদের দরকার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করানো। নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একটা পোর্ট তখনি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রবেশ করবে যখন একটা আন্তর্জাতিক অপারেটর আসবে। ভুলে যাবেন না একটা অপারেটর, আরেকটা পরিচালনা। পরিচালনা কিন্তু আমাদের। আমরা শুধু এখানে যাকে আগে দিয়েছিলাম তার জায়গায় হয়ত আরেকজনকে দিচ্ছি। এটা সম্পূর্ণ ইফিশিয়েন্সি বাড়াবার জন্য। কারণ আমার ব্যক্তিগত কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আমি চট্টগ্রামের বাসিন্দাও না। তিনি বলেন, ইন্টেরিম পিরিয়ডের জন্য আমরা এনসিটি ড্রাইডককে দিয়েছি। যার সঙ্গে নেভি রয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত, জানতে পেরেছি আগের থেকে গড়ে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা কিন্তু বড় ধরনের অগ্রগতি। আমি আশা করব, এটা যাতে ধরে রাখে। বন্দরের ট্যারিফ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বন্দরের ট্যারিফ আলোচনা করে বাড়িয়েছি। এককভাবে মন্ত্রণালয় বাড়ায়নি। আন্তঃমন্ত্রণালয়ে কথা হয়েছে এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মেইন পোর্টের ট্যারিফ দেখার পর দেখা গেছে এখনো এখানে ট্যারিফ অনেক কম। এমনকি মোংলা থেকেও কম। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের পর বন্দরের ট্যারিফ আর বাড়ানো হয়নি। আপনি দেখেন ১৯৮৬ সালের এক টাকার মূল্য এখন কত হয়েছে! এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুকসহ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button