জাতীয় সংবাদ

ফজলুর রহমানকে ঢাবিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, কুশপুত্তলিকা দাহ

জুলাই নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য
দল থেকেও কারণ দর্শাতে শোকজ

প্রবাহ রিপোর্ট : জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল রোববার বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মাহিন সরকার। এদিকে বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসিতে ফজলুর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ফজলুর রহমানের বিচার দাবি করেন। মাহিন বলেন, আমাদের অভ্যুত্থানকে যদি কেউ অস্বীকার করে, আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা অর্জনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। আমার দেখেছি ফজলুর রহমান গতকাল আরও একটি ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে চব্বিশের অভ্যুত্থানের বৈধতার দিকে তিনি আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, দেড় হাজারের বেশি শহীদের রক্তই আমাদের বৈধতা, ২০ হাজারের বেশি আহত, তারাই আমাদের বৈধতা। শুধু চব্বিশ নয়, এর আগেও যতোগুলো আন্দোলন হয়েছে এবং যারা শহীদ হয়েছেন আমার প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু চব্বিশের আন্দোলনকে যদি কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে, আমাদের কৃষক-শ্রমিকের ত্যাগ যদি কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে আমরা তাকে ছেড়ে কথা বলবো না। ফজলুর রহমানের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের জন্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মাটিতে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ৪৭, ৬৯, ৭১, ৯০ ও ২৪ আমাদের ইতিহাস। সুতরাং ইতিহাস নিয়ে যারা কথা বলবে তারাই অবাঞ্চিত হবে। ফজলুর রহমান যে বক্তব্য দিচ্ছেন কয়েক দিন ধরে, আমরা বুঝতে পারছি না তারেক রহমান কেন তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। আপনারা কী তাদের ভোটের জন্য ছেড়ে দিয়ে রেখেছেন? তিনি আপনাদের মৌলিক ভোটগুলো আরও নষ্ট করবেন। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান যে বক্তব্য দিচ্ছেন, আমার তাকে একক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছি না। তার এই কাজের দায়ভার বিএনপিকে নিতে হবে, ছাত্রদলকেও নিতে হবে। যারা ছাত্রদলের ডাকসু প্রার্থী রয়েছেন তাদেরও নিতে হবে। ফজলুর রহমানের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ ছাত্রদল করে কিনা আমরা তা দেখবো। ছাত্রদলের যিনি ভিপি প্রার্থী আছেন আবিদুল ইসলাম খান তিনিও একজন জুলাই যোদ্ধা, জিএস ও এজিএস যারা আছেন তারাই জুলাই যোদ্ধা, এখন আমরা দেখবো তাদের দলের লোক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ করে কিনা। জুলাইয় অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাবি শাখার আহ্বায়ক ও আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী আব্দুল কাদের তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের ‘কালো শক্তি এবং রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলার যে পরিণতি হাসিনাকে ভোগ করতে হচ্ছে ফজলুর রহমানদের জন্যও সেই একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।
ফজলুর রহমানকে শোকজ : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার কারণে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গতকাল রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে তাকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে যথাযথ কারণ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান গত বছর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকেই দায়ী করেছেন। তার ভাষায়- এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মূল পরিকল্পনাকারী ‘কালো শক্তি’ জামায়াত। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলন পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তিনি দাবি করেন, এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। তিনি বলেন, ‘যারা ৫ আগস্ট ঘটাইছে, কালো শক্তি, সেই কালো শক্তির নাম হলো জামায়াতে ইসলাম, তাদের যে অগ্রগামী শক্তি তার নাম হইলো ইসলামি ছাত্রশিবির। সারজিস আলমরা, যারা ওই এইটার (অভ্যুত্থানের) অভিনয় করছে, ৫ আগস্টের অভিনেতা যারা, আমি তাদেরকে নেতা বলতে আর চাই না, তাদের আমি অভিনেতা বলব। সেই আলবদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলাম আমরা মনে করেছিলাম ৫৪ বছর পর পূর্বপুরুষের পরাজয়ের গ্লানি তারা ভুলে গেছে। কিন্তু না, সেই পরাজয়ের গ্লানি দ্বিগুণ আকারে তাদের মধ্যে এসেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত ‘চক্রান্ত করে’ দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং তাদের পেছনে ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও’ আছে। তিনি বলেন, ‘তারা চক্রান্ত করে নিজেদের এই দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই প্রতিষ্ঠার পেছনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে। সে ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশে তারা এমন একটা শক্তি হয়ে দাঁড়াইছে যে, তাদের এখন অর্থ-বিত্ত সবকিছু আছে।’ তিনি মনে করেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাতেও এখন জামায়াতই আছে। তবে দলটি এটাও জানে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জামায়াতের প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে বিএনপি। তিনি বলেন, ‘তারা টাকা পয়সার মাধ্যমে তরুণ সমাজের যে কোনো একটা অংশকে কনভিন্স করে একটা শক্তি নিয়া সামনে আসছে। এবং সারা বাংলাদেশের এসিল্যান্ড, ইউএনও, পুলিশ, যা আছে ওপরের সচিব পর্যন্ত, বাংলাদেশের সব প্রশাসন তারা দখল করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ার কোম্পানি, মার্কেট, হসপিটাল, বিশ^বিদ্যালয়, সেখানের ছাত্রসংগঠন সবকিছু তারা দখল করে তারা এখন মনে করছে আমরা তো এখন আনঅফিশিয়াল ক্ষমতায় আছি, অফিসিয়াল ক্ষমতায় আমরা জীবনেও যেতে পারব না। কারণ ভোটের গোণায় আমরা আগে ছিলাম ৭%, এখন গেলে আরও ১% কমবে, কারণ, মানুষ বুঝে ফেলেছে যে তারা হলো রাজাকারের বাচ্চা, এরা ৫৪ বছর পরেও তারা রাজাকারের কুকীর্তি ভুলে নাই, তারা প্রতিশোধ নিতে চায়।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button