স্থানীয় সংবাদ

বৈশ্বিক চিংড়ি বাজারে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি ও জাত বৈচিত্রায়নের তাগিদ

# খুলনায় ফ্রোজেন ফুডস’র মতবিনিময় সভা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বৈশ্বিক চিংড়ি বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চাষপদ্ধতি আধুনিকায়নের লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (বিএফএফইএ), খুলনা রিজিয়ন-এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বিশেষ অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ আলী আজগার লবী (এমপি, খুলনা-৫), আমির এজাজ খান (এমপি, খুলনা-১), শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল (এমপি, খুলনা-২), এবং মোঃ আবুল কালাম আজাদ (এমপি, খুলনা-৬)।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনক এবং বিএফএফইএ-এর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম জহীর। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএফএফইএ, খুলনার ভাইস-প্রেসিডেন্ট শেখ কামরুল আলম।
মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনে বৈশ্বিক চিংড়ি বাজারের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে চিংড়ির বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ৭৯.২ বিলিয়ন ডলারের হলেও ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৩.৬ বিলিয়ন ডলারে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৩-২০৩৫ সালের মধ্যে এই বাজারের আকার ১২১.৪ থেকে ১৩১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পণ্যের বৈচিত্রায়ন, প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডিং এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। পাশাপাশি ব্ল্যাক টাইগার (বাগদা), গলদা এবং ভেনামি চিংড়ি চাষের আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর মাননিয়ন্ত্রণ এবং ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে উপকূলে মাটির লবণাক্ততার তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে এই খাতের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
সভায় বক্তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য, বিশেষ করে হিমায়িত চিংড়ি ও প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান অবস্থা, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ দূরীকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোকপাত করেন।
সভায় প্রধান অতিথি এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতের ব্যবসায়ী, চিংড়ি চাষী সংগঠনের প্রতিনিধি, রপ্তানিকারক ও মৎস্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button