জাতীয় সংবাদ

জাপা-গণঅধিকার পরিষদে উত্যপ্ত রাজনীতি

নুরকে প্রধান উপদেষ্টার ফোন, তদন্তের আশ^াস
জড়িত কেউ রেহাই পাবে না : অন্তর্বর্তী সরকার

প্রবাহ রিপোর্ট : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে রাজনীতি উত্যপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর হিসেবে খ্যাত জাতীয় পার্টির সঙ্গে নূরের দল গণঅধিকার পরিষদের অবস্থান এখন মুখোমুখি। বিষয়টি রাজধানী ছাপিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাপা কার্যালয়ে হামলা এবং দু’ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর ১ টায় তিনি ফোন করেন। এ সময় নুরুল হক নুর প্রধান উপদেষ্টাকে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত জানান। প্রধান উপদেষ্টা আশ^স্ত করেছেন ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে দলের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ জানান, এর আগে গত শুক্রবার রাতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নুরুল নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল আসেন। রাজধানীর কাকরাইলে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শরীরে কয়েকটি জখম রয়েছে, ভেঙেছে নাকের হাড়। গণঅধিকার পরিষদ বলেছে, গতকাল সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। তবে জাপা বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে জাপার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেন। তারাআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বাড়ান। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান। জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
জড়িত কেউ রেহাই পাবে না : অন্তর্বর্তী সরকার : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়া এ হামলায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না বলেও জানানো হয়। এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, কেবল নুরুল হক নূরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা- ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরও আঘাত। অন্তর্বর্তী সরকার আশ^স্ত করেছে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কেউ জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে বিচার নিশ্চিত করা হবে। সরকার জানিয়েছে, নুরুল হক নূর এবং তার দলের আহত সদস্যদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হবে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে নুরুল হক নূর, তার দলের আহত সদস্য ও তাদের পরিবারের সঙ্গে পুরো জাতির প্রার্থনা ও সংহতি রয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নুরুল হক নূর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন, বিভিন্ন মত ও কণ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, নুরুল হক নূরের ভূমিকা একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য জনগণের সম্মিলিত আকাক্সক্ষার প্রতীক। তার সাহস ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। সংকটকালীন সময়ে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণতন্ত্রে সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে আশ^স্ত করেছে যে আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। এটি জনগণের প্রতি সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার বলেও জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার যে কোনো ষড়যন্ত্র, বাধা বা প্রচেষ্টা সরকার ও গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। জনগণের ইচ্ছাই জয়ী হবে- কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button