স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় অসময়ে তরমুজ চাষ : বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

# ৩০হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা #
# খুলনায় জনপ্রিয় হচ্ছে অসময়ের তরমুজ
# সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ বটিয়াঘাটায়

কামাল মোস্তফা ঃ তরমুজ মূলত গ্রীষ্মের ফল হলেও সুস্বাদু এই ফলটি বর্ষাকালেও ব্যাপকভাবে আবাদ হচ্ছে খুলনায়। জেলার বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলায় চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মৎস্য ঘেরে মাচা তৈরি করে চাষ করা হচ্ছে রসালো এ ফলটি। অফসিজনে তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।
জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের মাচায় চাষ করা এমন একাধিক ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে কৃষকেরা সফলভাবে অফসিজন তরমুজ উৎপাদন করছেন। অফসিজনে অন্য ফসলের সাথে তরমুজ চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন তারা। তাদের দেখে শুধু সিজনে তরমুজ চাষ করা কৃষকরাও নেমে পড়েছেন চাষে। ফলে অফসিজনেও তরমুজ চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে।
অসময়ে তরমুজ চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের বিশেষ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় বলে জানান তারা।। উন্নত জাতের পাশাপাশি আবহাওয়া অনুক’ল বীজ বাছাই করা, পলিথিন বা নেটে তরমুজ ঝুলিয়ে দেয়া, পোকা দমনে বালাই নাশক স্প্রে করা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জেলায় ৯৬৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া অফসিজন তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচে ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, সিজনের থেকে অফসিজনে তরমুজের স্বাদ বেশি। এজন্য বিক্রি কওে দামও বেশি পাওয়া যায়। ঘেরের পাড়ে তরমুজ লাগানোর ফলে পানি সেচেও বেশি কষ্ট করতে হয় না।
বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের তরমুজ চাষী বিল্লাল হোসেন জানান, আগে শুধু মৌসুমে তরমুজ চাষ হতো। এখন অফসিজন তরমুজ চাষ শুরু করেছি। পাইকাররা ক্ষেত ১৮০০-১৯০০ টাকা মন দরে কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের তরমুজ চাষী গোবিন্দ বলেন, ঘেরের পাড়ে উস্তে,করলা, ঢেড়স, পুইশাকের পাশাপাশি তরমুজ চাষে লাভবান হচ্ছি। আগে শুধু ঘেওে মাছ চাষ করতাম, এখন তরমুজ চাষের ফলে বাড়তি আয় হচ্ছে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, উপজেলায় এবার ৬৫০ হেক্টর জমিতে অফসিজন তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমির তরমুজ কর্তন করা হয়েছে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলায় বিসিআরএল প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ টি স্কুল কার্যক্রম চলমান। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, বীজ সরবরাহ, জৈব বালাইনাশক হিসেবে সেক্স ফেরমন ফাঁদ প্রদান করা হচ্ছে। বিসিআরএল প্রকল্পে ২৮০ জন কৃষকের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, মৌসুমি তরমুজের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে সারাবছর ভোক্তারাও তরমুজ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অফসিজন তরমুজ চাষে জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহায়তা দিচ্ছে। কৃষকদের বীজ সরবরাহ ছাড়াও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপÑপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, অফসিজন তরমুজ চাষে খুলনার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ সরবারহ করছি। উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তরমুজ চাষীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। খুলনায় অফসিজন তরমুজ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button