জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে বিমান হামলা : নিহত ৫০

মিয়ানমার জান্তার বর্বরতা

প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমার সেনার বর্বর বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এ নৃশংস বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুকারিজ বলেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান এ সহিংসতা ও তা-ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। সাম্প্রতিক বিমান হামলা সেই কঠিন বাস্তবতাকে আবারও উন্মোচিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মুখপাত্র বলেন, ‘মহাসচিব এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মিয়ানমারের সব পক্ষকে অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজ নিজ বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।’
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা কিয়াউকতাও শহরে গত ২৮ সেপ্টেম্বরের বিমান হামলায় ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৫৮ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অং-ও প্রাণহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াই হুন অং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া নিথর মরদেহগুলোর মধ্যে নারী ও ছোট ছোট শিশুদের দেখতে পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে সামরিক জান্তার বোমা হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর, কিয়াউকতাওয়ে সোমবারের এই বিমান হামলাটিই রাখাইনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা অভিযোগ করে বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাধারণ বেসামরিক মানুষ এবং আবাসিক ভবনগুলোকে নিশানা বানিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সামরিক বাহিনীর এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকা- এবং সাধারণ মানুষের ওপর বোমা হামলায় জড়িত যে কারও বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নিতে আরাকান আর্মি সব ধরনের সামরিক কৌশল গ্রহণ করবে।
তবে এ ভয়াবহ হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে মিয়ানমার জান্তা সরকারের কোনো মুখপাত্র সাড়া দেননি। অবশ্য এর আগে একাধিকবার সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, সামরিক অভিযানে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা নাকি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে থাকে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই পুরো মিয়ানমারজুড়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা বাহিনীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরাকান আর্মিসহ একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। রক্তক্ষয়ী এই গৃহযুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে, চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মালয়েশীয় সরকার এই প্রক্রিয়াকে ‘স্বেচ্ছায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন’ দাবি করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button