স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় থামেনি স্কুল শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

# কোচিং করলে শিক্ষার্থীদের আলাদা সমাদর #

শেখ ফেরদৌস রহমান : খুলনায় এখনো স্কুল শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বাণিজ্য। শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড, শিক্ষা আমাদের মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটি অংশ। তবে এখন এই শিক্ষা যেন একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিনত হয়েছে । অর্থের বিনিময়ে নানা কৌশলে শিক্ষার্থীদের নিজ কোচিং এ পড়ার জন্য এক প্রকার বাধ্য করছে। এটাকে যেন কোনভাবে লাগাম টানা যাচ্ছেনা। এসব কতিপয় অর্থলোভী শিক্ষক, শিক্ষিকাদের বেপরোয়া পাঠদানে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরে আসছে। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষকের কাছে কোচিং করলে সেই শিক্ষার্থীকে শ্রেণী কক্ষে সেই শিক্ষক একটু আলাদা সমীহ করে। পাশাপাশি পরীক্ষার সময়ে পাওয়া একটু সুবিধা। এমনকি প্রশ্ন কি আসবে সেই বিষয়ে দেয়া হয় ধারণা এমনটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা। ভুক্তভোগী একজন সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও উইমেন্স কলেজে ৫ম শ্রেণীর অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় সময় ছিল আড়াই ঘন্টা। তবে স্কুলের শিক্ষকের কাছে যেসব শিক্ষার্থীরা কোচিং করে এসব শিক্ষার্থীরা মাত্র দুই ঘন্টায় পরীক্ষা শেষ করে খাতা জমা দেয়। তবে সেই শিক্ষকের কাছে যেসব শিক্ষার্থীরা কোচিং করেনি এসব শিক্ষার্থীরা পড়েন বেকায়দায় এত কঠিন প্রশ্ন বুঝে অংক কষতে তাদের সময় পার হয়ে যায়। এরপর অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান। এছাড়া জানাযায় খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের পাশাপাশি খুলনা প্রায় অধিকাংশ স্কুলের ভিতর চলছে কোচিং বাণিজ্য। যার মধ্যে খুলনা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, হাজী ফয়েজ উদ্দিনসহ এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই যে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য করছেননা। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে এসব শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। নিতিমালা অনুযায়ী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণী কক্ষের পাঠাদান কার্যক্রম সময়ের বাহিরে। শুধু মাত্র অভিবাভকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত ক্লাস করাতে পারবেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে মেট্রপলিটন শহরে মাসিক ৩০০টাকা, জেলা শহরে ২০০টাকা এবং উপজেলায় ১৫০টাকা রশিঁদের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময়ে ক্লাস পরিচালনার জন্য সর্বেচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এছাড়া মাসে ১২টি ক্লাস আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নেয়া যাবে। পাশাপাশি আয়ের থেকে ১০% অত্র প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ, পানি গ্যাস ও অফিসের সহায়ক কাজে খরচ করতে হবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন নিয়ম মানছেনা কোন শিক্ষক। কাগজ কলমে এসব নিয়মনীতি থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগ হচ্ছেনা। এমনকি এসব অর্থলোভী শিক্ষকরা ১০০০ টাকার নিচে এখন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্যাচে পড়ার সুযোগ দেয়না। এ বিষয়ে খুলনা খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও উইমেন্স কলেজের প্রিন্সিপাল রোজিনা আক্তার বলেন, আমি এমন বিষয় সম্পর্কে অবগত নই। এছাড়া কোন অভিভাবকেরা আমার কাছে লিখিত অেিযাগ করেনি। তবে নিয়ম অনুযায়ী আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকরা আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস নিচ্ছে। তারপরও আমি বিষয়টি দেখছি। এছাড়া যদি কোন শিক্ষার্থীর যদি গোপনে সেই শিক্ষকের কাছে পড়তে যায় আমরা কি করতে পারবো। এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসনের সদ্য যোগদানকৃত খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌফিকুল রহমান বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি এছাড়া তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button