খুলনা সংস্কৃত কলেজ দখলের হীনচেষ্টায় ভারতীয় চর চিন্ময়ের সহযোগি ও ফ্যাসিস্ট দোসরদের মানববন্ধন

# কলেজ অধ্যক্ষকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত #
স্টাফ রিপোর্টারঃ ভারতীয় চর চিন্ময় প্রভুর সহযোগি ও ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসররা খুলনা সংস্কৃত কলেজ দখলের হীনচেষ্টায় মানববন্ধন করেছে। একই সাথে তারা কলেজের অধ্যক্ষকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেছে। বুধবার তারা নগরীতে শান্তিপূর্ন পরিবেশ নস্ট করার হীন মানুষিকতার জায়গা থেকে এ মানববন্ধন করে বলে কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান। কলেজের সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, নগরীর সাউথ সেন্ট্রল রোডে অবস্থিত খুলনা কেশবচন্দ্র সংস্কৃত কলেজ। খুলনা পৌরসভার তৎকালিন চেয়ারম্যান রায় বাহাদুর খুলনা সংস্কৃত কলেজ করার জন্য জমি দেন। একই সাথে কলেজ পরিচালনা করার জন্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনে নীতিমালা তৈরী করা হয। ওই নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা কমিটিতে কেসিসি ২জন, জেলা পরিষদের-১জন, বিএল কলেজের-১জন প্রতিনিধিসহ এলাকার সুধীজনদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করতে হবে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ দিন শান্তিপূর্নভাবে কলেজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা ওই নীতিমালা ভেঙ্গে নিজস্ব মনগড়া নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে থাকে। ফ্যাসিস্ট আ’লীগ তাদের মনমত লোক ও ইসকন সদস্যদের দিয়ে কমিটি গঠন করে কলেজ পরিচালনা করে। ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসররা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কেসিসির-২জন, জেলা পরিষদের-১জন, বিএল কলেজের-১জন প্রতিনিধি সমন্বয়ে কলেজ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যবৃন্দ জানতে পারে, বিগত দিনে চিন্ময় ও আ’লীগ ফ্যাসিস্টরা সরকার প্রদত্ত কলেজ উন্নয়নের জন্য তিন লাখ টাকার অনুদান কলেজ ফান্ডে জমা না রেখে চিন্ময়ের সহযোগি বিজয় ঘোষের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে রেখেছে। বর্তমান কমিটির প্রচেষ্টায় বিজয় ঘোষ ওই তিন লাখ টাকার চেক কলেজ ফান্ডে জমা দেয়। এরপর থেকেই ফ্যাসিস্টদের দোসর ও চিন্ময়ের সহযোগিরা কলেজ ধ্বংস করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রদ্রোহী ও খুনী মামলায় গ্রেফতারকৃত চিন্ময় প্রভু ও আ’লীগের দোসরা কয়েকবার বৈঠক করে। ভারতীয় চর চিন্ময় প্রভু ইসকনের নেতৃত্বে আ’লীগ দোসরদের সহযোগিতায় খুলনায় সনাতনী সমাবেশ করার তারিখ ঘোষণা করে। কিন্তু ঘোষিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই চিন্ম রাষ্ট্রোদ্রোহী ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়। এখনও তিনি কারাগারে রয়েছেন। এতে করে চিন্ময় প্রভুর কলেজ দখল চেষ্টার কুটকৌশলী সমাবেশ পন্ড হয়ে যায় বলে কলেজ কমিটির সদস্য উজ্জল কুমার সাহা জানান। তিনি বলেন, অত্র কলেজ থেকে ইসকন সম্প্রদায় সন্যাসীদের অন্যত্র পাঠানোর জন্য সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমান গল্লামারিতে ইসকন মন্দির করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন। ইসকনের কিছু ব্যক্তিবর্গ হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরামিষভোজী একটি হোটেল কলেজে গড়ে তোলে। কলেজ কমিটি ওই হোটেলটি স্থানান্তর করে কলেজের ছাদে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করে ইসকন সদস্যদের নিকট। ইসকন সাধুরা এতে রাজি হয়। কিন্তু ভারতীয় চর চিন্ময়-এর সহযোগিরা ও ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসররা ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারা ইসকন সাধুদের ব্যানারে মানববন্ধন করে। চক্রটি বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এ মানববন্ধন করেছে বলে কলেজ সদস্য উজ্জল কুমার সাহা জানান। তিনি আরো বলেন, মানববন্ধন করার সময় কলেজ অভ্যন্তরে ফেলে কলেজের অধ্যক্ষ সুদর্শন চক্রবর্তীকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে চিন্ময় গ্রুপের সদস্যরা। বিষয়টি তারা থানা পুলিশকে অবগত করেছেন বলে তিনি জানান।



