যারাই নতুন করে আবারও অন্যায় এবং জুলুমের শাসন কায়েমের চিন্তা করেন তাদেরকে জুলাইয়ের কথা স্মরণ রাখতে হবে : অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান

# খালিশপুরের তোয়্যেবাহ মাদরাসা মাঠে কেন্দ্র ভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যারাই বাংলাদেশে নতুন করে আবারও অন্যায় এবং জুলুমের শাসন কায়েমের চিন্তা করেন তাদেরকে জুলাইয়ের কথা স্মরণ রাখতে হবে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হাজার হাজার শহীদ হয়েছে। যদি কেউ এটা স্বীকার না করে, তাহলে জাতির সাথে বেঈমানী হবে। ভারত আমাদের উপর দু:শাসন চাপিয়ে দিতে চায়। এটা আমরা কখনো মেনে নিব না। তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে আমাদের দুইজন মন্ত্রী এবং বিভিন্ন সময়ে ৪৮ জন এমপি ছিল। আমাদের (জামায়াতের) মন্ত্রী এবং এমপিদের বিষয়ে কোন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। এ থেকেই প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে দুর্নীতিমুক্ত এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আমরা দুর্নীতি করিনাই এবং ক্ষমতায় গেলেও করবোনা ইনশাল্লাহ। আসন্ন নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনের খালিশপুরের প্রতিটি কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ লাগবে নেতাকর্মীদের পাড়া-মহল্লা ও ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর খালিশপুর থানার ১১ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে তোয়্যেবাহ মাদরাসা মাঠে ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ১১ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে ও জামায়াতের ইসলামী ১১ওয়ার্ডের সেক্রেটারি আল কাউসার আমিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগরী কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল, ব্যবসায়ী থানার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা মনসুর আলম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১১ নং ওয়ার্ড এর সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান। অনন্যান্যের মধ্যে জামায়াত নেতা কামাল হোসেন, হুমায়ুন কবির, রিপন হোসেন, মু. ডালিম, আমিনুর রহমান, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল খালেক মোল্লা, হাফেজ শাহ আলম, এডভোকেট আবু সাঈদ, মু. মুহসিন, শ্রমিক নেতা মোখলেসুর রহমান, স ম আব্দুল বারী, সেলিম সিকদার, গোলাম মোস্তফা, আবুল হোসেন, আবু জাফর, সেলিম কাজী, মোক্তার হোসেন, কাজী আব্দুল্লাহ আল মাম্নু, তাহেরুল আলম, মু. সাইফুল্লাহ, ছাত্রনেতা ইসমাঈল হোসেন, মু. মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে মহানগরী আমীর বলেন, সারা বিশ্বে পিআর পদ্ধতি জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে সব ভোট মুল্যায়ন হবে। সুতরাং মৌলিক সংস্কার শেষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। যারা বাংলাদেশে একটি সন্ত্রাস মুক্ত সুস্থ নির্বাচন চায় জামায়াত তাদেরকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আমাদের সাথে বিভিন্ন ইসলামী ও আদর্শিকভাবে জাতীয়তাবাদী বিশ^াসী দল রয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী, ভারত বিরোধী, স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আগামীতে আমাদের নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে ঈনশা আল্লাহ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একটি সুস্থ ও সামাজিক দেশ উপহার পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মুখে এখন একটাই আওয়াজ ‘সব দল দেখা শেষ, জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ’ সব দেখেছি বার বার, জামায়াতে ইসলামী এবার’ দেশের মানুষ তাদের সঠিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছে, কেউ চাইলেই আগের মত দিনের ভোট রাতে, মৃত ব্যক্তিদের ভোটে আর সরকার গঠন করতে পারবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সকল ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে তাতে আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বাংলাদেশ। আমরা আমাদের সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনে অটল থাকবো। কুরআনের হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য কিভাবে হাসতে হাসতে জীবন দিতে হয় তা আমাদের নেতারা ফাঁসির মঞ্চে দাড়িয়ে দেখিয়ে গেছেন, তাই আমরা কোন পরাশক্তিকে ভয় করি না, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট।



