স্থানীয় সংবাদ

আদালতের আদেশ অমান্য করে জেলখানা ফেরিঘাট ৬ষ্ঠবারের মত টেন্ডার আহবান

# সর্বোচ্চ দরদাতাকে বঞ্চিত করার অভিযোগ #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার জেলখানা ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন দু’লক্ষাধীক মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ও ফেরিতে পারাপার হয়। ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকার কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে। ঘাটটি টেন্ডার আহবান করা হলেও নানা অজুহাতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ দরদাতার নিকট হস্তান্তর না করে গড়িমশি করছে। এমন কি ঠিকাদার কর্তৃক আদালতে রিট পিটিশন করলে আদালত ঘাট ইজারা দেয়ার কার্যক্রম স্থাগিত রাখার আদেশ দিলেও তা মানছে না ঘাট কর্তৃপক্ষ। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করেই কর্তৃপক্ষ নতুন করে ঘাট ৬ষ্ঠবারের মত টেন্ডার আহবান করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, আদালতে আদেশ হাতে পেলে আহবানকৃত টেন্ডার স্থগিত বা বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নদী পথে সবচেয়ে বেশী মানুষ খুলনায় প্রবেশ ও বের হয়ে যায় জেলখানা ফেরিঘাট দিয়ে। বিগত দিনে নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে ফ্যাসিস্টরা তাদের ইচ্ছামত এ ফেরিঘাটটি পরিচালনা করতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিসস্টরা পালিয়ে গেলে ঘাট পরিচালনা কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঘাট পরিচালনা শুরু করে। এতে করে ঘাটে দেখা দেয়া নানা বিশৃংখলা। কর্তৃপক্ষ খাস কালেকশন করলেও ঘাটে শৃংখলা ফেরাতে তারা ব্যর্থ হয়। এতই বিশৃংখলা সৃষ্টি হয় সম্প্রতি ওই ঘাটে নৌকা আর ফেরি ধাক্কা লেগে আকাশ নামের এক যুবক নদীতে পরে মারা যায়। এসব ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ ঘাটটি গত ২৫ মার্চ’২৫ চতুর্থবারের মত তিন বছরের মত দরপত্র আহবান করে। ঠিকাদাররা নিয়ম মেনেই দরপত্র দাখিল করে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হয় জহুরুন এন্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারী ফার্ম। ঠিকাদার ৮৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা দর দিয়ে টেন্ডার দাখিল করেন। অথচ পূর্বে ঠিকাদার ৫৭ লাখ টাকা দিয়ে ঘাট ডেকে নেয়। কিন্তু পছন্দের ফার্ম সর্বোচ্চ দরদাতা না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ৫ম বারের মত পূণরায় ঘাট টেন্ডার আহবান করে। জহুরুন এন্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারী ফার্ম আবারোও দরপত্র সংগ্রহ করে। এবং ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকায় দরপত্র দাখিল করে। এবারও ওই ফার্ম সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হয়। আইন অনুয়ায়ী পূর্বের ঠিকাদারের দামের চেয়ে ১০% টাকা বৃদ্ধি পেলে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ঘাট বুঝে দিতে পারে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দসই দরদাতা না পাওয়ায় ৬ষ্ঠবারের মত আবারো টেন্ডার আহবান করেন। জহুরুন এন্ড সন্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫৭ লাখ টাকার বিপরিতে ৯৬ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা হলেও কর্তৃপক্ষ ঘাটের বরাদ্দ না দিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মত টেন্ডার আহবান করেন। এ টেন্ডার আহবানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদার খুলনা জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। একই সাথে তিনি হাই কোর্টে রিটপিটিশন দাখিল করেন। যার নং-১১৫৩১/২৫। শুনানীকালে খুলনা জজ কোর্ট ও হাই কোর্ট ঘাটের ৬ষ্ঠবারের টেন্ডারসহ সকল প্রক্রিয়া এক মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করে। একই সাথে উচ্চ আদালত ৪র্থ ও ৫ম বারেরমত ডাকা সর্বোচ্চ দরদাতা জহুরুন এন্ড সন্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কেন ঘাট বরাদ্দে আদেশ প্রদান করা হবে না মর্মে রুলনিশি জারি করে। জজ কোর্টের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষ পুনরায় ৬ষ্ঠবারের মত টেন্ডার আহবান করে। ওই দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর’২৫। এদিকে সর্বোচ্চ দরদাতা জহুরুন এন্ড সন্স হাইকোর্টের রিট পিটিশনের পূর্বের একমাসের স্থগিতাদেশ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ১৯ আগস্ট স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করে। যার আদেশ কপি ল ইয়ার সাটিফিকেট এড. এস এম রেজাউল করিম বিবাদী ৬ জনকে ডাক যোগে নোটিশ প্রেরণ করে অবহিত করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৬ষ্ঠবারের মত আহবানকৃত দরপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেননি। যা কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করছেন বলে জানান ঠিকাদার। তিনি জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ঘাটের টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার বিধিবিধান থাকলেও অদ্যবদী কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন না করায় তিনি রিটিপিটিশন দাখিল করেন। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক জানান, ঘাটটি ৬ষ্ঠবারের মত দরপত্র আহবান করা হয়েছে। তবে এ দরপত্রের কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দেয়ার আদালতে আদেশ তিনি গতকাল পর্যন্ত পাননি। তবে পেলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button