বাস্তবভিত্তিক কেসিসির ৭১৯ কোটি টাকার বাজেট আসছে বৃহস্পতিবার ঃ তিন বিভাগকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

# বিগত বছরের চেয়ে এবার অর্জন কম, অর্জন হার ৬৩% #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাস্তবভিত্তিক বাজেট আসছে আগামী বৃহস্পতিবার। ওই দিন বেলা ১১টায় নগরভবনে এ বাজেট পেশ করা হবে। এবারের বাজেটের আকার ছোট হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৯ কোটি টাকা। সংশোধীত বাজেটে অর্জন হয়েছে ৬২.৯৬ %। তবে গত অর্থ বছরে (২০২৪-২৫) বাজেটে অর্জন হয় ৭৮%। গত চার বছরে নতুন কোনো প্রকল্প না থাকা আর পুরাতন প্রকল্পগুলোও চলতি বছর শেষ হওয়ার পথে থাকায় এবার বাজেটের আকার ছোট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেসিসির বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। তবে নতুন করে বড় একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেসিসি তিনটি বিভাগকে গুরুত্ব দিয়ে এবার প্রস্তাবিত বাজেট তৈরী করেছে। বিভাগগুলো হলো, কনজারভেন্সী বিভাগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। কেসিসি সূত্র জানায়, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নামে প্রকল্প দু’টি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হয়। প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই দু’ প্রকল্প। এর মধ্যে সড়ক মেরামতের প্রকল্পটি গত অর্থবছরে শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি অর্থবছরে। ২০২১ সালে অনুমোদন হওয়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পও চলতি অর্থবছরে শেষ হচ্ছে। কেসিসির হিসাব শাখা সূত্রে প্রকাশ, করপোরেশনের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের পুরোটাই আসে প্রকল্পের অনুকূলে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। ফলে নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হলে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। ওই বিভাগ আরো জানায়, চলতি অর্থ বছরে প্রস্তবিত বাজের ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গত অর্থ বছরে (২০২৪-২৫) প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা সংশোধিত আকারে দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যা অর্জনের হার ৬৩%। চলতি বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে মোট আয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা গত অর্থ বছরে ধরা হয় ১৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ওই বছরে প্রকৃত আয় হয় ১৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ওই বছর সবচেয়ে আয় কম হয়েছে সরকার ও অন্য সংস্থার ক্ষতিপূরণ খাত থেকে। ওই খাতে ধরা হয় ৭৭ কোটি টাকা কিন্তু আয় হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যা ৭৫ কোটি টাকাই কম। এছাড়া তুলনামূলকভাবে আয় কম হয় এ্যাসফল্টপ্লান্ট, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল উল্লেখ্যযোগ্য। তবে ব্যর্থ এসব খাতে এবার পূর্বের ন্যায় বাজেট ধরা হয়েছে। উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রাপ্ত টাকা ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যা গত অর্থ বছরে ধরা হয়েছিল ৫২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গত বছর এ খাত থেকে প্রকৃত টাকা আসে ২৫ কোটি ৯১ টাকা। যা এবার ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৬ কোটি টাকা কম। সূত্রটি জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেসিসির বাজেটের আকার ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২ কোটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭১৯ কোটি টাকার বাজেট। চলতি মাসেই এ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। এ বাজেটে বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। তবে বাজেটে কনজারভেন্সী, স্বাস্থ্য ও মশক নিধন বিভাগকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেসিসির বাজেট কাম অ্যাকাউন্ট অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রকল্প কমে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দও কমছে। এ জন্য বাজেটের আকার ছোট হচ্ছে। হিসাব শাখার কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের বাজেট হবে বাস্তবভিত্তিক। যা অনুমোদন করা হবে বছর শেষে তাই বাস্তবায়ন করা চেষ্টা করা হবে।



