জাতীয় সংবাদ

ফরিদপুরে ভাঙ্গা উপজেলা-থানায় হামলা, ভাঙচুর-আগুন

৯০ জনের নামে পুলিশের মামলা

প্রবাহ রিপোর্ট : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসন পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা উপজেলা, থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে বিক্ষোভকারী জনতা। গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এদিকে, ফরিদপুর-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনকারী হাজার হাজার জনতা উপজেলা পরিষদের ভেতরে প্রবেশ করে সরকারি বিভিন্ন অফিস ভেঙে চুরমার করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশের অন্তত তিনটি গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ওসি আশরাফ হোসেনের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি রোকিবুজ্জামান বলেন, সকাল থেকে মহাসড়কসহ সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদ, থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে। জাতীয় সংসদের আসন পুনর্বিন্যাসের গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে গেজেট প্রকাশের পর থেকেই পাঁচদিন মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখে স্থানীয়রা। এতে ঢাকা-খুলনা ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে, ভাঙ্গায় চলমান বিক্ষোভ-অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বিঘেœর ঘটনায় ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ছাড়া আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা থানার এসআই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে মামলাটি করেন। এ মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে আন্দোলন ঘিরে গঠিত সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম.ম. সিদ্দিক মিয়াকে (৬০) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে নগরকান্দা থানার চাঁদহাট ইউনিয়ন থেকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ছাড়া মামলায় হামিরদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়াকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-চরভদ্রাসন-সদরপুর) আসন বিন্যাসকে কেন্দ্র করে গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ম.ম. সিদ্দিক মিয়ার নেতৃত্বে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকায় সমাবেত হয়। তারা অবৈধ দাবি বাস্তবায়নের নামে যাতায়াতকারী জনসাধারণকে স্বাভাবিকভাবে পথে চলতে না দিয়ে রাস্তার ওপর বড় বড় গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শক্তির মহড়া প্রদর্শন করে ত্রাস সৃষ্টি করে ও যানবাহনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাদের বাধা প্রদান করা হলে মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে তাদের ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় ওসি মো. আশরাফ হোসেন বলেন, দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি রুজু হয়েছে এবং আটক ম.ম. সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে গতকাল সোমবার আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করা হয়। এরপরেই বিক্ষুব্ধরা তিন দফায় গত ৫ দিন ভাঙ্গা হয়ে যাওয়া দুটি মহাসড়ক, দুটি রেলপথ ও ঢাকা-মাওয়া ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ। সর্বশেষ গত রোববারও সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ করেন এবং গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবারও অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button