বহির্বিভাগে এক মিনিটে রোগী দেখেন চিকিৎসকরা সরকারী হাসপাতালে চিত্র

# ক্ষোভ প্রকাশ রোগীদের #
শেখ ফেরদৌস রহমান : সরকারী হাসপাতাল গুলোতে এক থেকে দেড় মিনিটে রোগী দেখা শেষ করেন চিকিৎসকরা। সময় নিয়ে রোগী না দেখার কারণে অনেক রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশও করেন। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ সরকারী হাসপাতালে বহির্বিভাগে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমনকি অসুস্থ্য রোগীদের শারিরীক বিভিন্ন পরীক্ষা ছাড়া কোন ওষুধ লিখছেনা চিকিৎসক। এমন অভিযোগ রয়েছে সরকারী হাসপাতালে সেবা প্রত্যাশিত রোগীদের । তবে, প্রাইভেট ক্লিনিক বা চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীদের সময় নিয়ে রোগী দেখা হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী রোগীরা। এমনকি রোগীর অভিযোগ শুনে ও কোন কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেনা চিকিৎসক। সরেজমিনে দেখা যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২য় তলায় ২০২ নং চিকিৎসকের রুম যেখানে শতশত রোগীরা অপেক্ষায় আছেন চিকিৎসকের। এ সময়ে কথা হয় ভুক্তভোগী রোগী আব্দুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, আমি ফুলতলা ছাতিয়ানি এলাকা থেকে এসেছি, ইউরোলজি চিকিৎসকের কাছে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসকের দেখা পেলেও মাত্র এক মিনিট এর বেশি সময় দেয়নি চিকিৎসক।তিনি আমার শারিরিক সমস্যার কথা শুনে কিছু পরিক্ষা দিলো কোন ওষুধ লিখলনা। এমনকি আমার পুরাতন ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেখানোর পর শুধু দেখলেন । আমার সাথে কোন কথা বলেনি। পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে পরবর্তি সময়ে দেখাতে বলেছে। এমনকি শুধু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমন চিত্র না প্রায় সব হাসপাতালে এমন চিত্র। খুলনা জেনারেল হাসপাতালেও একই অবস্থা, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালেও এমন চিত্র। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ২০৭ নং কক্ষে যেখানে সপ্তাহে তিনদিন সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতিবার রোগী দেখেন ডাঃ ফয়জুল ইসলাম মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। হাসপাতালটির সামনে প্রায় সময় রোগীদের অপেক্ষা করতে হয়। তবে, তিনি রোগীকে কম সময় দিলেও রোগীর সমস্যা শুনে পরীক্ষার পাশাপাশি ওষুধ লিখেন। রোগী আকলিমা বলেন, স্যার কথা একটু কম বলে আর সময় কম দিলেও তিনি আমার শারিরিক সমস্যার কথা শুনে ওষুধ লিখেছেন । তবে স্যার সরকারী খুলনা বিশেষাতি হাসপাতালের পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া বাহিরের কোন রিপোর্ট দেখতে অনিহা প্রকাশ করে। এ বিষয়ে কথা হয় নাম না প্রকাশ শর্তে একজন চিকিৎসকের সাথে তিনি বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন শত, শত, রোগীর আসে আজও প্রায় দুইশ’র মত রোগী দেখছি। এখন একটানা ভাবে এত রোগী দেখতে গেলে সময় পাওয়া যায়না। এর মধ্যে একটু ব্রেক দিতে হয়। কিছু সামান্য নাস্তা করতে হয়। যেকারণে অনেক রোগীরা না বুঝে অভিযোগ করেন। আমাদের বিষয়টি দেখতে হবে। তারপরও রোগী বুঝে সেইভাবে আলাপচারিত করা হয়। এ বিষয়ে কথা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ কাজী মোঃ আইনুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন, আমি এখন একটু অন্য ঝামেলা নিয়ে ব্যস্ত আছি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি আগে কয়েকবার চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করেছি। আর রোগীর চাপ বেশি থাকায় এমনটি হতে পারে। আর খুব সকালে আসলে ভালো ভাবে চিকিৎসকের সাথে কথা বলা সুযোগ থাকে। সময় বাড়লে সকলে ব্যাস্ত হযে পড়ে।



