মানিকগঞ্জে একদিনে পৃথক স্থান থেকে ৫ লাশ উদ্ধার

প্রবাহ রিপোর্ট : মানিকগঞ্জের চারটি উপজেলার পৃথক স্থান থেকে একদিনে নারী-পুরুষসহ পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে সদর, ঘিওর, সাটুরিয়া এবং সিংগাইর থানা পুলিশ লাশগুলো উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, জেলার ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের দেওভোগ এলাকায় সোনা মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোনা মিয়া সিংজুরী ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় প্রবাসে ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকায় আন্দোলনের সময় গুলিতে তার স্ত্রী নিহত হন। তারপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে সোনা মিয়ার ছেলে আলামিন বলেন, আমার মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল সোমবার সকালে ফুপা ফোনে জানান বাবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘিওর থানার ওসি মুহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলমান আছে। অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন চান্দহর এলাকায় গতকাল সোমবার ভোরে রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুসারে, অজ্ঞাত ব্যক্তিটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত আট/দশ দিন ধরে তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে ঘুরাফেরা করছিলেন, অনেকে তাকে খাবারও দিয়েছেন। সকালে এক ব্যক্তি খাবার নিয়ে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে ধাক্কা দেন। পরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয় পরে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের আইটি বিভাগ তার নাম পরিচয় জানতে চেষ্টা করছে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আক্কাস মিয়া বলেন, প্রথমে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাই এবং পরে থানা পুলিশকে অবহিত করি। সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। অপরদিকে সদর উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন একটি বহুতল ভবন থেকে আবু হানিফ নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি তার সাবেক স্ত্রীর পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য আসবেন সেই খবর বাকি পাওনাদারদের জানান সাবেক স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার। আবু হানিফ তার সাবেক স্ত্রীর বাসায় এসে টাকা পরিশোধ করে বের হবে এমন সময় বাকি পাওনাদারদের দেখে লোকলজ্জার ভয়ে রুমে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। আবু হানিফের সাবেক স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার বলেন, আমাদের মধ্যে সম্পর্ক নেই প্রায় দুই বছর হয়। গতকাল সোমবার তিনি আমার কিছু পাওনা টাকা দিতে আসবেন, এই তথ্য বাকি পাওনাদারদের জানাই আমি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হানিফ আমার বাসায় আসেন টাকা দিতে এবং বেলকনি দিয়ে বাকি পাওনাদারদের দেখে পাশের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। আমি ভাবছি ভয়ে হয়তো দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন পরে যখন দেখি কোনো সাড়াশব্দ নেই তখন আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজনকে জানাই। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে এবং হানিফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও জেলার সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টব ইউনিয়নের দেওলি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে রোজিনা আক্তার নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। অন্যদিকে সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়ার একটি কারখানার ওপর থেকে ড্রাম পরে গুরুতর আহত হন রাসেল মাহমুদ নামে এক শ্রমিক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাসেল মাহমুদ জামালপুর জেলার সদর উপজেলার রহুল্লী এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবিএম তৌহিদুজ্জামান বলেন, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।



