রাসূল (সা.) এর সিরাত বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# সিরাত কনটেস্ট এর পুরস্কার বিতরণ ও নাতে রাসূল (সা.) সন্ধ্যা #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, এদেশ থেকে ইসলাম, ইসলামী আদর্শ, রাসূল (সা.) এর সীরাত মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। দ্বীনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার পাশাপাশি সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। রাসূল (সা.) সীরাত অনুসরণ না করার কারণে সমাজে অন্যায়, পাপাচার, জুলুম, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, লুটপাট ছড়িয়ে পড়েছে। এই চাঁদাবাজদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। রাসূল (সা.) এর সিরাত বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।” শুক্রবার রাতে নগরীর দৌলতপুর থানার পাবলা কবীর বটতলা মাঠে রিসালাহ একাডেমির উদ্যোগে সিরাত কনটেস্ট’২৬ এর পুরস্কার বিতরণ ও নাতে রাসূল (সা.) সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
একাডেমির প্রিন্সিপাল মুশাররফ হুসাইন আনসারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একাডেমির দৌলতপুর শাখা পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মুনাওয়ার হুসাইন আনসারী, খালিশপুর শাখা পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি এ এস এম জাফর সাদিক, রিসালাহ একাডেমির পরিচালনা পর্ষদ সদস্য যথাক্রমে-খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার হামিদুল হক খান, ইসলামী ব্যাংক ফুলতলা শাখা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম পারভেজ, ইসলামী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা কর্মকর্তা ইবাদত হোসেন, বি এম হাসিবুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সাল মিয়া, ব্রিলিয়ান্ট ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান এম আল আমিন আকাশ, ফারুক হোসেন, সাহল রহমান, কাবার গিলাফ হজ্জ সার্ভিসেস এর পরিচালক রবিউল ইসলাম ফয়সাল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিসালাহ একাডেমির একাডেমিক ইনচার্জ মু. হাসানুজ্জামান ও এডমিন ইনচার্জ আরাফাত হোসেন মিলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিরাত কনটেস্টে বিজয়ী ৩০ প্রতিযোগীকে ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট ওয়াচ, সিরাত গ্রন্থসহ লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিজয়ীদের অভিবাদন জানান। অনুষ্ঠানের শেষাংশে নাতে রাসূল (সা.) সন্ধ্যায় বিভিন্ন পরিবেশনা করেন খুলনার ঐতিহ্যবাহী টাইফুন শিল্পীগোষ্ঠী ও রিসালাহ কালচারাল একাডেমির শিল্পীবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, রাসূল (সা.) আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন জাহেলিয়াত ঘুচে হেরার আলোয় পৃথিবীকে উদ্ভাসিত করতে। আমাদেরকে রাসূল (সা.) এর দেখানো পথ অনুসরণ করতে হবে, তার দেখানো পথে সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবার গঠন করতে পারলেই দুনিয়াতে শান্তি ও আখেরাতের মুক্তি মিলবে। সিরাত কনটেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা রাসূল (সা.) কে যতটুকু জানার সুযোগ পেয়েছে, এখন তা অনুসরণ করতে হবে। তবেই রাসূলের (সা.) আদর্শে জীবন গঠন সম্ভব হবে।
মাহফুজুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমগ্র মানব জাতির শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবজাতির চূড়ান্ত মুক্তির একমাত্র পথ তাঁর নির্দেশিত আদর্শ অনুসরণ করা।
তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এর জীবনের বাস্তব প্রতিফলনই পবিত্র কুরআন। তিনি ছিলেন মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) এর পূর্ণাঙ্গ আদর্শ অনুসরণ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
মাহফুজুর রহমান বলেন, সিরাতুন্নবী (সা.) গভীরভাবে অধ্যয়ন, প্রজ্ঞা বা হিকমাহর সঙ্গে তা মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করা প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। এই চর্চাকে কোনো নির্দিষ্ট দিন বা মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে।



