জাতীয় সংবাদ

পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রবাহ রিপোর্ট : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই। সেই স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যে সফর অন্তর্ভুক্ত। তারা যদি সফরে আসে তাহলে আমরা স্বাগত জানাবো এটাই স্বাভাবিক এবং আমরা তাই করছি। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসন্ন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা তো চাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ুক। যেটা আসলে অনেকটা একতরফাভাবে আটকে রাখা হয়েছিল এতদিন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থ আছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এবং তা এগিয়ে নেওয়াতে। আমার মনে হয় আমরা সেভাবেই এগুচ্ছি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি-না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে মনে হয় এই ইস্যুতে আমরা বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা বলেছি। এই বিষয়ে কোনো অগ্রগতি থাকলে আমি আপনাদের জানাবো। কোনো অগ্রগতি নেই, কাজেই আমি জানাতে পারছি না। তিনি বলেন, ভারতের অনেক প্রকল্পের কাজ কিন্তু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে তারা বলছিল, হয়তো বাস্তবে তারা খুব অস্বস্তি বোধ করছিল, এই কারণে বন্ধ হয়েছিল। পরে আবার কোনো কোনো প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে বিস্তারিত আমার কাছে নেই, কারণ এসব প্রকল্পের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় জড়িত। কিছু প্রকল্প চলছে আর কিছু হয়তো কাজ এগুচ্ছে না। এ সময় ত্রিপুরায় তিনি বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ভারতকে তদন্তের দাবি করা হয়েছিল, তবে এর জবাব ভারত দেয়নি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ভারত যে বয়ান দিয়েছে, সেটা আমরা নাও গ্রহণ করতে পারি। কিন্তু আমাদের তো খুব বেশি কিছু করার নেই। কারণ গ্রামবাসীরা যদি তাদের বেআইনি কাজে বাঁধা দিয়ে থাকে বা কোনো ক্ষতির জন্য আক্রমণ করে থাকেৃ অবশ্যই কোনো দেশের আইনে এটা অনুমতি দেয় না। কাজেই আমরা এটার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চাই। এদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি বাতিলের কথা হচ্ছে, তার অনেকগুলো বাস্তবে নেই। তিনি বলেন, যেই তালিকা একজন উপদেষ্টার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন, সেটা সঠিক নয়। এই তালিকার অধিকাংশ চুক্তি বাস্তবে নেই। একটি চুক্তি আছে অনেক পুরোনো। আর কয়েকটি চুক্তি আছে, যেগুলো পর্যালোচনার মধ্যে আছে , ঠিক ওই নামে নেই। উপদেষ্টা জানান, ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প, অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ নামে কোনো প্রকল্প নেই। আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডর নামে নেই কিছু, যে নামে আছে তা হচ্ছে- আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন প্রকল্প, এটার একটা প্যাকেজ বাতিল হয়েছে। ‘ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ নামে কিছু নেই, যেটা আছে সেটা একটা সমঝোতা স্মারক, সেটা বাতিল হয়নি। কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প বলে কিছু নেই, যেটা আছে সেটা একটা সমঝোতা স্মারক। এটি স্থগিত হয়নি। বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নামে কোনো চুক্তি নেই। যেটা আছে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহন, সেটা বাতিল হয়নি। ফারাক্কা বাঁধ সংক্রান্ত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব- এরকম কিছু নেই। সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প নামে কোনো প্রকল্প নেই। পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি- এরকম কোনো চুক্তি হয়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল হয়নি, প্রক্রিয়া চলছে। আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, সেটা মোটামুটি ঠিক আছে। এটা পুনর্বিবেচনার জন্য আলোচনা চলছে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে। এটা নবায়নের জন্য আলোচনা হবে, যোগাযোগ চলছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। খুব যে অগ্রগতি তা না। ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি- এটা আমরা বাতিল করেছি। এটা বিবেচনা করে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের জন্য খুব একটা লাভজনক না। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটা চুক্তিই বাতিল করেছে। যখন কোনো চুক্তি সই হবে বা বাতিল হবে, তখন আমরা আপনাদেরকে জানাবো। প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে বলা হয়, ‘ভারতের সঙ্গে ১০টি চুক্তি বাতিল, বাকিগুলোও বিবেচনাধীন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button