চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত পেতে ও চোর চক্রদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত পেতে ও চোর চক্রদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল(বুধবার) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বটিয়াঘাটা গজালমারী রহিম সড়কের নাসরিন খাতুন। লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে নাসরিন বলেন, আমি বটিয়াঘাটা উপজেলার গজালমারী রহিম সড়কের মোঃ হাবিবুর রহমানের মেয়ে। গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৭টার আমি রান্না সেরে রান্না ঘরের জানালা খোলা রেখে আমার শয়ন কক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নেই। রাত ৮টার দিকে আমার ছেলে নাসরুল্লাহ হোসাইনের (১৮) ক্ষুধা পেলে রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে খাই। খাওয়ার এক পর্যায়ে আমাদের দু’জনেরই মাথায় চক্কর দিতে থাকে এবং আমরা অজ্ঞান হয়ে পরি। পরেরদিন বেলা ১১টায় আমি চোখ মেলে দেখতে পাই রান্না-ঘরের গ্রিল-কাটা এবং আলমারীর দরজা ভাঙা, আলমারীর কাপড় চোপড় সরানো ছিটানো। যা দেখে আমি পুনরায় অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আমার চিৎকার শুনে পাশের রুমে থাকা আমার ছেলে আমার রুমে এসে আমাকে অচেতন এবং রান্না ঘরের গ্রিল কাটা দেখতে পায়। এসময় সে চিৎকার করে এবং তার বন্ধুদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেসেজ করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং দেখতে পায় ঘরের আলমারীর দরজা ভাঙ্গা এবং তার মধ্যে থাকা কাপড়চোপর ছড়ানো ছিটানো রয়েছে। এরপর স্থানীয়রা আমাকে চিকিৎসার জন্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে আমি বুঝতে পারি, যখন আমি রান্না ঘর থেকে শয়নকক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নেই, ঠিক ঐ সময় চোর বা চোরচক্র আমার রান্নাঘ্রয়ের গ্রিল কেটে আমাদের খাবারের সাথে চেতনা নাশক কিছু মিশিয়ে রেখে যায়। যা খাওয়ার পরে আমরা আচেতন হয়ে পরি। এরপর চোরেরা আমার আলমারীতে থাকা ১ জোড়া ঝুমকা, স্বর্ণের খুকুমনি কানের দুল ১ জোড়া, স্বর্ণের গলার চেইন ২টি, হাতের রুলী ৩ টা, নেকলেচ ২ টা, হাতের আংটি ৪ টা, নাক ফুল প্রায় ৫০ টি এবং ১ টি ল্যাপটপ নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও নগদ ২২ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার মালামাল তারা নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বিউটি, তার বড় ছেলে বিপ্লব ও মেজো ছেলে বিপুল এ অপকর্ম করেছে বলে আমি মনে করি। কারণ বিউটি কোথাও বেড়াতে গেলে আমার নিকট এসে স্বর্ণের গহনা চাইতো ব্যবহারের জন্য। আমি কখনো দেইনি। এ বিষয়ে আমার উপরে তার একটি ক্ষোভ ছিলো। পাশ্ববর্তী এক ভাড়াটিয়ার স্ত্রীর সাথে বাড়ির সামনের রাস্তা কেটে গর্ত করায় আমার বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তার সাথে আমার ধস্তাধস্তি হয়। এসময় ঐ ভাড়াটিয়া আমার কানের দুল নিয়ে নেয়। যা এলাকাবাসি সবাই দেখেছে। পরক্ষণেই দেখতে পাই আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আমার ছেলেকে ৯৯৯ এ কল করতে বলি এবং পলিশ এসে ঐ নারীর স্বামী দুলুকে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরেরদিন সকালে বিউটি আমার বাড়ির সামনে এসে প্রচুর গালিগালাজ করে এবং থানায় গিয়ে দুলুকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। আমার প্রশ্ন হলো বিউটি আমাকে গালিগালাজ কেন করলো এবং দুলুকে ছাড়াতে থানায় গেলো কেন? আর থানা পুলিশ কেনইবা দুলুকে ছেড়ে দিলো? যাইহোক এরপর থেকে বিউটি ও তার পরিবার সবসময়ই আমাদের ক্ষতি সাধন করতে চাইতো।
যার জের ধরে বিউটির ছেলে বিপুল ‘সর্বসময় আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করতো। বিশেষ করে রাতের আঁধারে। আমি তাকে অনেকবার নিষেধও করেছিলাম। এ নিয়েও ঐ ছেলের সাথে আমার বাকবিতন্ডা হয়। এরই মধ্যে আমি জানতে পারি, গত দুই মাস আগে বিপুল তার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু তার স্ত্রী সন্তানরা বাড়িতেই ছিলো। তবে আমার বাড়িতে চুরির এক সপ্তাহ আগে বিপুল তার স্ত্রী সন্তানদেরও সরিয়ে নিয়ে যায়। কারণ সে পরিকল্পিতভাবে তাদের সরিয়ে আমার বাড়িতে চুরি কার্য সম্পাদন করে তার নতুন আবাসস্থলে সে স্বপরিবারে চলে গিয়েছে। বিপুলের বাবা মা, ভাইসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট আমি বিষয়টি জানাই এবং গ্রাম্য শালিশের আহবান করি। কিন্তু বিপুলকে তার পরিবারের লোকজন শালিসে উপস্থিত করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমি ৩২৮/৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় বটিয়াঘাটা থানায় মামলা দায়ের করি। যার নং:-০৪। তারিখ ১৪/১০/২০২৫ইং। থানায় মামলা করলেও আজও কোন আসামীকে পুলিশ প্রশাসন গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে ২৬ লক্ষ ৩২ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।



