তিন দফা দাবিতে খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচী শুরু

# ছুটির দিনও তাদের আন্দোলন চলবে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত খালিশপুর অঞ্চলে নারী শিক্ষার অগ্রগতির লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। তিন দফা দাবিতে এ আন্দোলন করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা জানান। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে অবস্থান কর্মসূচী শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে স্কুল চত্বরে চলমান কর্মসূচী প্রথম পর্যায়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। তবে এ কর্মসূচীর শুক্র-শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চলবে বলে শিক্ষক আল আমিন হাজরা জানান। এদিকে স্কুল শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে কি করণীয় বিষয় নিয়ে দুপুরে কেসিসি শিক্ষা ও সংস্কৃতি অফিসার এসকে এম তাছাদুজ্জামান ও নয়াবাটি হাজি শরিয়তুল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শেখ জাহিদুল ইসলাম অত্র স্কুলে আসেন। এবং তারা আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে মত বিনিময় করেন। তবে শিক্ষকরা তাদের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার না করার বিষয় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষকরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, তাদের দাবিনামা হলো, স্কুলের পূর্ণাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি গঠন, নিয়োগশর্ত অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান, শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয় পরিচালনায় ঘাটতি বাজেটের অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে প্রেরণ। গত ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি জানিয়ে ২২ অক্টোবরের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ ও কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচিতে অটল রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা “পাঠচক্র”, “মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা” এবং “বিদ্রোহী সংগীত” পাঠ ও পরিবেশনের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শান্তিপূর্ণ হলেও বার্তা স্পষ্ট, তারা তাদের ন্যায্য দাবি থেকে এক ইঞ্চি পিছপা হবেন না। শিক্ষক আল আমিন হাজরা জানান, কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাথে বসেনি। অনানুষ্ঠানিকভাবে কেসিসির শিক্ষা অফিসার আসলেও তার আশ্বাসে শিক্ষকরা আস্থা রাখতে পারেনি। তাই তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের এই অবস্থান কর্মসূচিতে তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সমাধান কামনা করছে।



