খুলনাঞ্চলে কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে মহাব্যস্ত কৃষক

আমন আবাদ হয় ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪২ হেক্টর
চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন
মোঃ আশিকুর রহমান : চাল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে খুলনাঞ্চল। ওই ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের কৃষকের ব্যস্ততা এখন রোপা আমন ধানের আবাদ শেষে ধান কর্তন ও মাড়াই (ছাটাই)’র মহা কর্মযজ্ঞ। খুলনাঞ্চলকে কৃষি নির্ভর করে তুলতে কৃষককেরা বছরের পর বছর ধরে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে নানাবিধ চাষাবাদ অব্যহত রখেছে। চলতি মৌসুমে কৃষকদের রোপা আমন ধানের আবাদ এ অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করে তোলার প্রয়াস এবং কৃষকের মুুখেও স্বস্তির হাসি ফুটেছে। দুঃচিন্তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শঙ্কামুক্ত থাকতে তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চল সুত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আমন মৌসুমে খুলনাঞ্চলের ৪ জেলার রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯৮হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অঞ্চলের ৪ জেলায় চাষাবাদ হয়েছে ২ লাখ ৯০হাজার ৩৪২ হেক্টর জমি, হার ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ। গত বুধবার (১২ নভেম্বর) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৫০ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে ধান কর্তন করা হয়েছে, যার হার ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। খুলনাঞ্চলে রোপা আমন ধানের চাষাবাদের অগ্রগতির বিপরীতে খুলনাঞ্চলে এবার চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন।
খুলনাঞ্চলের ডুমুরিয়া, দিঘলিয়ারসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রোপা আমন কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজের। কারণ প্রকৃতির কবলে পড়ে কৃষাণ-কৃষাণির খুশিরর হাসি যেন কান্নায় পরিণত না হয়, তাইতো ঘরে ফলতে তুলতে তাদের ব্যস্ততা আরো বেড়েছে। খুলনাঞ্চলে কৃষকদের এখন বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে চলতি মৌসুমের আমন ধান কর্তন ও মাড়াই করে ঘরে ফসল তোলা নিয়ে।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কৃষক তৈয়েবুর কাজী জানান, কয়েক একর জমিতে আমন ধান লাগিয়ে ছিলাম। আলহামদুল্লিাহ ফসল ভালো হয়েছে। ক্ষেতের ধান কাটা প্রায় শেষ। একদিকে ধান কাটা অন্যদিকে মাড়াইয়ের কাজ চলছে। তবে শঙ্কায় আছি, কখন বৃষ্টিবাদল নামবে। দ্রুত ঘরে ধান ওঠাতে পারলে স্বস্তি পায়।
দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটের কৃষক রবিউল জানান, ধান কাটা প্রায় শেষ। মাড়াই ও চলছে। ধানের সিজিন তো শেষ, এবার ডাল ও শীতের সবজির আবাদ শুরু করতে হবে।
কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ধুসহাটি ব্লকের কৃষাণ-কৃষাণিরা রোপা আমন ধানের কর্তন ও মাড়াইয়ের ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। কৃষাণ-কৃষাণির প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে খুশিরর হাসি যেন কান্নায় পরিনত না হয়, তাই ঘরে ফলতে তুলতে তাদের ব্যস্ততা আরো বেড়েছে। পাশাপাশি, রোপা আমন ধানের আবাদ যেহেতু শেষ, তাই তাদের পরিবর্তী চাষাবাদের জন্য তেল ও ডাল জাতীয় এবং শীতকালীন সবজির আবাদ করা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কিশোর আহম্মেদ জানান, দিঘলিয়া উপজেলাতে চলতি রোপা আমান ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে উপজেলার কৃষকেরা কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করছে। এ কার্যক্রম মনিটরিংয়ের পাশাপাশি উপজেলার কৃষকদের চাষাবাদের জন্য তেল ও ডাল জাতীয় এবং শীতকালীন সবজির আবাদ করা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ব্রি-১০৩ ধানের জাতটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্ভবনা হয়ে ওঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চল খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি আমন মৌসুমে এই অঞ্চলের চাষাবাদ বেশ সন্তোষজনক। রোপা আমন আবাদের বিপরীতে উৎপাদিত চাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।


