শেখ হাসিনার বিচারের রায় প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন ফিরে আসছে: হেলাল

# আইচগাতীতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই তিনটি ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পথ এখন সুস্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে যেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই সংস্কার প্রক্রিয়া এখন কার্যকর রূপ পাচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম-খুনের অভিযোগের বিচারের রায় হওয়া এটাই প্রমাণ করে যে দেশে আইনের শাসন ফিরে আসছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আইচগাতীতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলোÑএকটি সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।এই নির্বাচনই ঠিক করবে দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। জনগণ বহু বছর ধরে যেটা চেয়েছে, সেই জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে এবার।বিএনপি প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে।জনগণই শক্তির উৎস গণতন্ত্রই আমাদের পথ,বলেন তিনি।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, যারা দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন করে পালিয়ে গিয়েছিল,তাদের বিরুদ্ধে আদালত একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে আজিজুল বারী হেলাল বলেন,বাংলাদেশে এখন যে নির্বাচনকে বানচাল করবার জন্য যে সমস্ত ষড়যন্ত্র হচ্ছে।এমন কোনো অপশক্তি নেই বাংলাদেশের নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে। তিনি জনগণের ভোটাধিকারের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন,”বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছর আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, তার নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য, তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।” আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সড়ক–জনপদে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বিএনপি দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, “রাজনীতি মানে মানুষের সুবিধা বাড়ানো, কষ্ট দেওয়া নয়। বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি চায়Ñসংঘাতের নয়।
বিএনপি নেতা হেলাল বলেন, শীত নামতেই দেশের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ লকডাউনের ডাকদিয়ে নিজেরাই ভারতে লকডাউনে আছে। অন্যদিকে জামাত সকাল-বিকাল বক্তব্য পাল্টে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।তারা জনগণের ভোটকে ভয় পায়, নির্বাচনকে ভয় পায়।কিন্তু বিএনপি জনগণের কাছে যায়,গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি একজন প্রধানমন্ত্রী দুইবারের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। দেশ চালাতে হলে জবাবদিহি থাকতে হবে, আর ক্ষমতার সীমা না থাকলে দেশ পিছিয়ে যায়। এজন্যই বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি চায়।দেশের মানুষের মনোযোগ এখন ভোটের মাঠে, এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতি জনগণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আগ্রহী। তারা অভিযোগ করেন, অতীতের মতো সন্ত্রাস বা ভয় দেখিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করলে জনগণই তা প্রতিহত করবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল মোল্লা, কামরুজ্জামান টুকু,শেখ আব্দুর রশিদ, এনামুল হক সজল, নাজমুস সাকিব পিন্টু, আব্দুস সালাম মল্লিক, রিয়াজ মোল্লা, আরিফুর ইসলাম আরিফ, আলী আজগর, খান সাহানুর রহমান আর্জু, শেখ আনিসুর রহমান, আতাউর রহমান রনু, বাবু উজ্জ্বল কুমার সাহা, গোলাম মোস্তফা তুহিন, শেখ সাঈদ, মাহমুদুল আলম লোটাস, মোল্লা সাইফুর রহমান সাইফ, মোল্লা সাইফুর রহমান মিন্টু, চৌধুরী কাওছার আলী, বিকাশ মিত্র, শফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মোশারেফ শিকদার, আসাদুজ্জামান বিপ্লবসহ জেলা–উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।সভা শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি ও প্রচারণার কৌশল নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।


