স্থানীয় সংবাদ

মণিরামপুর মহিলা কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ও ছাত্রী নিবাস

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের পুরাতন তিনতলা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ না থাকায় অগত্যা পরিত্যক্ত ভাঙ্গাচুরা ভবনে জীবনের ঝুকি নিয়ে ছাত্রীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এই ভবনের তিনতলায় ঝুঁকি থাকা সত্বেও এখনও চালু রয়েছে ছাত্রী নিবাস। ফলে যেকোন মুহুর্তে অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, মণিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুরে ১৯৯৩ সালে তিনতলা ভবনের নিচ তলায় কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় মহিলা কলেজের যাত্রা শুরু হয়। এর পর কয়েক’শ বছরের ব্যবধানে ভবনটি তিনতলায় বিশালাকারের একটি ভবন নির্মাণ করে কলেজটি ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে উন্নীত করেন কলেজ কতৃপক্ষ। অতঃপর দিন দিন কলেজের ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করতে থাকে। ১৯৯৭ সাল থেকে কলেজটিতে বিদ্যমান রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র। বর্তমান কলেজে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১’শ ছাত্রী। ১৯৯৯ সালে সরকারিভাবে পৃথক দুইতলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দিন দিন ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাঠাদানের কক্ষ সংকট দেখা দেয়। ফলে পুরাতন তিনতলা ভবনেও ছাত্রীদের পাঠদান চলছে। ইতিমধ্যে ওই ভবনের একতলা এবং দুইতলার মেঝে, দেওয়াল, বিম ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বহুস্থানে ছাদেও পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভবনটি এখন ব্যবহার উপযোগী নেই। তার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। এছাড়া ওই ভবনের তিন তলার কয়েকটি কক্ষ সংস্কার করে গড়ে তোলা হয়েছে আবাসিক (ছাত্রী নিবাস) ব্যবস্থা। ইসলামী ষ্টাডিজ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জাকির বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে আতঙ্কিত অবস্থায় পাঠদান করা হয়। রসায়ন বিভাগের সহকারি মোহাম্মাদ বাবুল আকতার বলেন, কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুকি নিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। ছাত্রী নিবাসে থাকা বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী তানহা সুলতানা, অহনা খাতুন জানান, পরিত্যক্ত ভবনে কখন যে কি হয় তা নিয়ে তাদের সব সময় আতংগ্রস্থ থাকতে হয়। ছাত্রী নিবাসের দায়িত্বে থাকা সহকারি অধ্যাপক মুহিবুল্লাহ মনু বলেন, ছাত্রী নিবাসে বর্তমান ৫০ জন ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু এখানে তাদের রাখা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার শাফায়েত হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কলেজের পুরাতন ভবন পরিদর্শন করে ব্যবহার না করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অদিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাদিউজ্জামান গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন এসে পরিদর্শন শেষে পুরাতন তিনতলা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করেন। কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা মাহমুদ বলেন, এ মুহুর্তে পুরাতন ভবনের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে অন্যত্র বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদানের ব্যবস্থা জরুরী। গভর্নিংবডির সভাপতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, যেহেতু তিনতলা পুরাতন ভবন শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ পরিদর্শন শেষে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী টিনসেড নির্মাণ করে ছাত্রীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান, এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button