স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে চার্জার ব্যাটারি হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্র সক্রিয়

শেখ ফেরদৌস রহমান : দেখতে ফিটফাট স্মার্ট পরনে টাই, স্যূট, চশমা কথা বলার ভঙ্গি খুব ভদ্র মানুষ। তবে এরা বিভিন্ন দোকান বা হোটেল থেকে চার্জার ব্যাটারি হাতিয়ে নিচ্ছে। দোকানদারদের সাথে মিষ্টিমিষ্টি কথা বলে বিশ^াস অর্জন করে চার্জার ব্যাটারি নিয়ে লাপাত্তা হচ্ছে এই চক্রটি। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ির সাথে কথা বলে জানা গেছে। তবে, এখনও ভুক্তভোগী কেউ প্রতারণার শিকার হলেও পুলিশের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে কথা হয় নগরীর সদর থানাধীন জেলা স্টেডিয়ামের পাশের হোটেল ব্যবসায়ী নাজিম এর সাথে ভুক্তভোগী বলেন, গেল তিন চারদিন আগে দুপুরের পর হঠাৎ একজন যুবক ভালো পরিপার্টি পোশাকে আমার খাবারের হোটেলে প্রবেশ করে। বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। এরপর বলে আমার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারটি একটু সামনে আছে। আমার গাড়ীটির চার্জার ব্যাটারি কাজ করছেনা । গাড়ীটি পড়ে আছে। আপনার এই ব্যাটারিটা দিলে একটু গাড়ীটি পরিক্ষা করে আবার দিয়ে দিব। আপনি আমার সাথে একজন ব্যাক্তি পাঠিয়ে দেন। তিনি আবার ব্যাটারি নিয়ে আসবে। আমি প্রয়োজনে কিছু টাকা দিব। ভুক্তভোগী সরল মনেবিশ^াস করে একজন পরিচিত রিক্সাওলাকে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ব্যাটারিটি নিয়ে একটি ইজিবাইকে উঠে বলে আপনি একটু অপেক্ষা করেন আমি আসছি। এরপর তিনি লাপাত্তা হয়ে যান। ভুক্তভোগী আরও বলেন, ভাই তাকে দেখে মনেই হবেনা সে একজন প্রতারক। আমি গেল মাস আগে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে ব্যাটারি ক্রয় করছি। মানুষের পোশাক দেখে তাকে কখনও বিচার করা যায়না তার মনে কি আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আর থানায় কোন অভিযোগ করার সময় বা ইচ্ছা হয়নি। এছাড়া জানা যায় খালিশপুর থানাধীন গোয়ালখালী এলাকায় একটি ব্যটারি দোকানে। একই ভাবে ভালো পরিপাটি পোশাকে এসে বলে ভাই আমার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারটি এখন নষ্ট একটা নতুন ব্যাটারি প্রয়োজন। আমার গাড়ী সামনে আছে। আর টাকার ব্যাগটি গাড়ীতে আছে। আপনি একজনকে দিয়ে দেন আমি তার কাছে টাকা দিব। দোকানদার মিরাজ তাকে সরল মনে নতুন একটি ব্যটারি দিয়ে দেয়। আর সাথে একজনকে দেয়। তবে, প্রতারক নিজেই ব্যাটারি নিয়ে হাঁটতে হাঁঠতে সামনের দিকে দ্রুত যেতে থাকে। আর পিছনের ব্যক্তি কিছু বোঝার আগেই। প্রতারক চলন্ত একটি মাহেন্দ্র গাড়ীতে উঠে লাপাত্তা হয়ে যায়। এভাবে নগরীর বিভিন্ন ব্যাটির দোকান সহ সুযোগ বুঝে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে লাপাত্তা হচ্ছে চক্রটি। এ বিষয়ে কথা হয় সচেতন নাগরীক মোঃ আল-আমিন এর সাথে তিনি বলেন, কোন অপরিচিত ব্যক্তিকে বিশ^াস করা যাবেনা। এছাড়া যেখানে প্রতারণা হয়েছে সেসব জায়গায় সিসি, টিভি ফুটেজ দেখে এই প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করা সহ। প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগীদের বিষয়টি অবগত করতে হবে। এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিবি) উপঃ কমিশনার মোঃ তাজালু ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button