স্থানীয় সংবাদ

রূপসা ঘাটের মাঝিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ : স্বস্তি মিলতে পারে যাত্রীদের

যাত্রী ভাড়া ৪ টাকার স্থলে ২ টাকা নেওয়ার নির্দেশ বিভাগীয় কমিশনারের

রূপসা প্রতিনিধি : রূপসা ঘাটের মাঝিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ; স্বস্তি মিলতে পারে যাত্রীদের। এই ঘাটের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার মাঝিরা নিজেদের ইচ্ছামত যাত্রীভাড়া বাড়িয়ে জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া ৪ টাকা আদায় করে। এমনকি সুযোগ বুঝে সেটা ৫-১০ টাকায়ও যেয়ে ঠেক খায়। এরকম খামখেয়ালি ভাবে ভাড়া বৃদ্ধি , ঘাটের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দরুন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় যাত্রীদের। যার দরুন এই ঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া হাজার হাজার যাত্রীদের মাঝে একটি ক্ষোভ ও অনিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছিল। তাদের এমন খামখেয়ালি মতো ভাড়া বৃদ্ধির স্থলে ২ টাকা করে নেওয়ার নির্দেশ বিভাগীয় কমিশনারের । খুলনা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন রূপসা ফেরিঘাট পূর্ব ও পশ্চিম রুপসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা মাঝি সংঘ রেজিস্ট্রি নং-২৬৮ কর্তৃক পরিচালিত নদী/খেয়া পারাপারে নির্ধারিত ২ টাকার পরিবর্তে ৪ টাকা গ্রহণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহার ব্যতিরেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঘাট ইজারাদার শেখ আলী আকবর কে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন। গত ২৩, নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিভাগীয় কমিশনের কার্যালয়,খুলনা এর (স্থানীয় সরকার শাখা) থেকে প্রেরিত স্মারক নং-০৫-৪৪-০০০০-০০৪-০৪-০৪৪-২৫-৭৮৫ (০৩) মারফত বর্তমান ঘাট ইজারাদার মো: শেখ আলী আকবরের কাছে সিনিয়র সহকারী কমিশনারের প্রেরিত এক পত্রে জানানো হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) খুলনা ১২,০৯,১৯৬০ খ্রি তারিখের গেজেট মোতাবেক রূপসা ফেরিঘাট, কাস্টমস ফেরিঘাট, জেলখানা ফেরিঘাট, কালিবাড়ি ফেরিঘাট, মহেশ্বরপাশা দৌলতপুর সহ অন্যান্য ফেরিঘাট গুলোর ইজারাদার মো:শেখ আলী আকবর। সে মোতাবেক বিগত ১৬-০৬-১৯৬১ খ্রি, তারিখে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) , খুলনা কর্তৃক খুলনা নদী বন্দরের সীমানা বিআইডব্লিউটিএ এর খুলনা অফিস কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করেন। খুলনা নদী বন্দরের সীমানা বুঝে পাওয়ার পর হতে বিআইডব্লিউটিএ খুলনা অফিস কর্তৃপক্ষ খুলনা নদী বন্দরের সীমানার নির্ধারিত সরকারের ধার্যকৃত শুল্ক/সেলামি প্রতিবছর জেলা প্রশাসক খুলনা বরাবর পরিশোধ করে আসছেন। গত ২০১৩ সালে খুলনা নদী বন্দরের ফেরিঘাটের ইজারা প্রদান কে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদ খুলনা ও বিআইডব্লিউটিএ খুলনা অফিস কর্তৃপক্ষের মধ্যকার জটিলতা দেখা দিলে উভয় পক্ষ ইজারা প্রদানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনা জেলা জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেন, যা এখনো চলমান আছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের সিপি নং ৩১৫৮/২০২৪এ ংঃধঃঁং য়ঁড় আদেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক বিআইডব্লিউটিএ খুলনা হতে মো: আলী আকবর শেখ বৈধভাবে ঘাটের টোল প্লাজা চালিয়ে আসছেন। সে মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পূর্ব ও পশ্চিম রূপসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা মাঝি সংঘ যার রেজিস্ট্র নং খুলনা-২৬৮ যাত্রীদের নিকট থেকে ২ টাকার পরিবর্তে জোরপূর্বক ৪ টাকা আদায় করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহার না করে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপার করছে এ কারণে প্রায় রপসা খেয়া ঘাটে দুর্ঘটনা ঘটছে। যে কারণে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে প্রেরিত পত্রে পূর্ব ও পশ্চিম রূপসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা মাঝি সংঘ রেজিস্ট্রি নং খুলনা -২৬৮ নামক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঘাট ইজারাদার কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছেন।এ ব্যাপারে ঘাট ইজারাদার মোঃ আলী আকবর শেখের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা আমি পেয়েছি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি মাঝি শ্রমিক সংঘের লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছি কিন্তু তারা কোন প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না। তবে এই খবরে যাত্রীদের মধ্য থেকে অনেকেই বলছেন ট্রলার ভাড়া দুই টাকার পাশাপাশি ঘাটের দিকেও তদারকি বাড়াতে হবে। ঘাটের টোল আদায়ের ক্ষেত্রে মানবিক ব্যবহার ও টোলের পরিমাণ কম হলে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত আরো সহজতর হবে বলে অনেকের অভিমত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button