স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ার আলোচিত জিসান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামীদের পরিবার ঘর ছাড়া

# নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন #
# আসামীর বসত-বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দিঘলিয়ার আলোচিত শিশু জিসান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামী মানসিক ভারসাম্যহীন হাফিজুর রহমান ফয়সালসহ তার পরিবার ঘর ছাড়া হওয়ায় নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় দিঘলিয়া দেয়াড়া গ্রামের জি এম আলি হান্নানের ছেলে জি এম মফিজুর রহমান ফাহিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে ফাহিম জানান, গত ১৩ আগস্ট দিঘলিয়া বর্তমান খবরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি সংবাদ ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জানতে পারি-আমার মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই হাফিজুর রহমান ফয়সাল (২৬) প্রতিবেশী মিল শ্রমিক আলমগীরের পুত্র জিসান (৯) কে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়েছে। ঘটনার পরদিনই আমার মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইসহ মা ও বাবা আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিঘলিয়ার দেয়াড়া ৬নম্বর ওয়ার্ডে মন্ডল মিল সংলগ্ন এলাকায় তথাকথিত “বিচারের” নামে একটি মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনের নেতৃত্বে ছিলেন মিল মালিকপক্ষ-ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এবং সেখানে উপস্থিত ছিল মন্ডল টেক্সটাইল মিলের উশৃঙ্খল শ্রমিক ও স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী। কোন সামজিক বা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই মানববন্ধন করেন, দিঘলিয়া দেয়াড়া গ্রামের কানা কামাল ও ইলিয়াস হত্যামামলার ১নং আসামী রাজিব, লুৎফর মন্ডলের ছেলে সিকো মিয়া, শেখ আব্দুল জব্বারের ছেলে মনিবুর রহমান, শেখ লেদু মিয়ার ছেলে শেখ আবু জাফর, বক্কার মোল্লার ছেলে রাজু মোল্লা, নজরুল ইসলাম ওরফে নজুর ছেলে সুমন, আল-আমিন, আব্দুল মান্নানের ছেলে কিয়াস সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জন, মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মনিবুর রহমান। এসময় তার উল্কানিমূলক বক্তব্য বলেন, “খুনি ফয়সালের জায়গা দেয়াড়ার এই মাটিতে হবে না, খুনি ফয়সালের বাড়ি ভেঙে দাও, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও”। এই বক্তব্যই মূলত সহিংসতার সরাসরি প্ররোচনা দেয়।
তিনি আরও বলেন, মানববন্ধন চলাকালীন পূর্বশত্রুতার জের ধরে উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়, ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটারসহ মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে। আমাদের শিক্ষাজীবনের সার্টিফিকেট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নষ্ট করা হয়। পরিশেষে দোকান লুট করে ও বাড়ি লুট করে, বসত-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে আমাদের আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এই নৃশংস ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও একাধিক প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমাদের কাছে আছে। অভিযোগ রয়েছে পথিমধ্যে মন্ডল টেক্সটাইল মিলের মালিক সিকো মিয়ার নেতৃত্বে শ্রমিকরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি আটকে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা গাড়িটি ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে বললে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানায়-দিঘলিয়া থানার অনুমতি ছাড়া তারা আগুন নেভাতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। আমরা কার্যত গৃহহীন, সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। আজ রাস্তাই আমাদের ঠিকানা। নতুন করে যে বাড়িঘর তৈরি করব বা এলাকায় যাব সন্ত্রাসীদের ভয়েও হুমকিধামকি তাও সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button