স্থানীয় সংবাদ

ফ্যাসিস্ট শিক্ষক দেলোয়ার গংরা সাধারণ শিক্ষকদের হুমকি ধামকি অব্যহত রেখেছে

# খালিশপুর বঙ্গবাসী স্কুল #
# শোকজের জবাব দিতে অবাঞ্চিত দেলোয়ার এখন ঢাকায় #

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাষ্ট্রীয় শোক দিবসকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্কুলের সকল শিক্ষককে নোটিশ দিয়ে হাজির করার ঘটনায় বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফ্যাসিস্ট দেলোয়ার হোসেনের বিপক্ষে কথা না বলার জন্য তার গংরা হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছেন। মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে স্বাধীনতা শিক্ষক (আওয়ামী শিক্ষকদের সংগঠন) পরিষদের নেতা দেলোয়ার তদ্বির বানিজ্যে মেতে উঠেছে। মোটা অংকের টাকা দিয়ে তিনি ভোট বাণিজ্যসহ নানা প্রোলোভন দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বিষয়টি বিএনপির কোন কোন নেতা জড়িত তা তুলে ধরা হচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রীয়া সৃষ্টি হচ্ছে। অবিলম্বে ফ্যাসিস্ট দুর্নীতিবাজ শিক্ষক দেলোয়ারের অপসারণের দাবি করেছেন। একই সাথে যেসব বিএনপি নেতা তাকে রক্ষা করতে মাঠে নেমেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রকিবুল ইসলাম বকুলের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ হাই কালু বলেন, এই আওয়ামীলীগ নেতা দেলোয়ার মাস্টারের দুনীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের শেষ নেই। এই স্কুলটি তিনি আওয়ামীলীগের উর্বর ভূমিতে পরিণত করেছে। এই স্কুলে বিগত দিনে লেখাপড়া বাদ দিয়ে বেশীরভাগ সময় চর্চা করা হতো ক্ষুদে বঙ্গবন্ধু সৃষ্টিসহ নানা ভাবে আওয়ামীকরণের কর্মকান্ড। শিক্ষক মনির বলেন, তাদেরকে জামাত-বিএনপি বলে নানাভাবে নির্যাতন করতো। তার অন্যায় কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করতে পারতাম না। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একজন স্কুল শিক্ষককে শারীরিকভাবে নির্যাতনের বিষয়টি সাঃ শিক্ষকদের মর্মাহত করে। তারপরও তার অন্যায় কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করার দুঃ সাহস শিক্ষকদের ছিল না। শিক্ষক বাদশা বলেন, শিক্ষকদের আটকে রেখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যাওয়া থেকে বিরত রাখার ঘটনায় খালিশপুরবাসী বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছে না। পাশাপাশি এ খবর শোনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই দেলোয়ার বিগত দিনে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের নেতা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরো স্কুলটি তিনি আওয়ামীলীগের উর্বর ভূমিতে পরিণত করেন। ৫ আগস্টের পর কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলে পরে আবার কতিপয় সুবিধা ভোগী নেতাদের আশ্বাসে স্কুলে ফিরে এসে বিএনপির বুদ্ধিজীবী সাজার চেষ্টা করছেন বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ। এনব অপকর্মের কারণে শ্ােকজ করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগ নিস্পত্তি কর্মকর্তা প্রফেসর কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম। ওই শোকজে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনার বিরুদ্ধে ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সাধারণ ছুটি ও শোক পালনকালীন স্কুল খোলা রাখা এবং সহকর্মীদের স্কুলে উপস্থিত হতে বাধ্য করার নোটিশ জারির অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) এর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৫ (পরিমার্জিত ২০১৮) এর ধারা ৭.১ (গ) মোতাবেক অভিযোগ সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত তথ্য, প্রতিবেদন, কাগজপত্রাদি, লিখিত/ মৌখিক বক্তব্য যাচাই-বাছাই করার নিমিত্ত আগামী ৪ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় আপনাকে অনিকের কার্যালয়ে (রুম নং-৭০১, বি-ব্লক, শিক্ষা ভবন, ঢাকা) স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত/ মৌখিক বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডিসি (শিক্ষা) কানিজ ফাতেমা। তিনি বলেন, যেহেতু দেলোয়ারের অভিযোগ তদন্ত করছে শিক্ষা অধিদপ্তর। তাদের কদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। ১০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফারুখ হিল্টন বলেন, মাস্টার দেলোয়ার একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট। তিনি শিক্ষকদের বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে না দেয়া সে ব্যাপারে আটকে রাখা হয়। এ খবর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্দ হয়ে তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে কতিপয় বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই ফ্যাসিস্টের বিচার চাই। শিক্ষক বাদশা বলেন, রবিবার তাদের শিক্ষক মনির ঢাকা থেকে ফিরেছেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট দেলোয়ারের পক্ষে কথা বলার জন্য তার গংরা নানা কৌশলে সাধারণ শিক্ষকদের ভয়ভীতি দিচ্ছে। তারপরও রবিবার তারা সবাই আতংকের মধ্যে স্কুলে ছিলেন। কখন যেন দেলোয়ার গংরা স্কুলে হামলা করে-এমনই আতংকে ছিলাম সাধারণ শিখক্ষকরা। তারপর ওই ফ্যাসিস্ট দেলোয়ার যাতে স্কুলে ফিরতে না পারে পারে সে জন্য শিক্ষকরা সতর্ক আছেন বলে তিনি জানান। তার ফেইজবুক এখনও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার লুটেরাদের ছবি শোভা পাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button