আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য :জামায়াত আমির

# সিলেটের হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশ #
প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখানে রনাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অথবা তাদের সন্তানেরা আছেন। আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমার যে ভাই জীবন দিয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি এমন বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি হয়তো সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না। তিনি বলেন, জীবন বাজি রেখে, জীবন দিয়ে যারা আমাদেরকে ঋণী করে গেলেন তাদের প্রতি এ দেশ, জাতি, রাজনৈতিক দল আর নেতৃবৃন্দ কী সম্মান দেখালো? তাদেরতো স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ তারা কায়েম করবেন। মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আসলে কিছুই হলো না। কার কারণে হলো না? এর জন্য কি সাধারণ জনগণ দায়ী? অবশ্যই না। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের সঞ্চালনায় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান জেলার ৪টি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় তিনি বলেন, দফায় দফায় যারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন, ভালো যদি কিছু করে থাকেন এটিও তাদের কৃতিত্ব। অপকর্ম যদি কিছু থাকেন তারও দায় তাদের। কেউ কোনো কিছু ভালো করেনি তা আমি বলবো না। কিন্তু যে দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষের কপাল বদলে যায় সে দেশের মানুষের কপাল বদলায় না কেন? এই না বদলানোর মূল কারণ হলো অসৎ নেতৃত্ব। তিনি আরও বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের বিজয় দেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে দেবে। জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে নারীরা অনিরাপদ, দুর্নীতি সমাজের আগাগোড়া ছেয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধ এমন বাংলাদেশের জন্য হয়নি, যে বাংলাদেশে এখনও মানুষকে ভাই বলে ভোট নিয়ে শালারও মর্যাদা দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব প্রকার বিভক্তিকে ঘৃণা করে। ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ও মানুষকে বঞ্চিত করতে চায় না। জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের বিজয় দেশের রাজনীতি পাল্টে দেবে। রাজার ছেলে রাজা হবে না, রাজনীতিকরা হবে দেশের সেবক। আর হ্যাঁ ভোট পরাজিত হলে বাংলাদেশ হারবে। ইনশাল্লাহ হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হবে। দেশ না বদলানোর প্রধান কারণ অসৎ নেতৃত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিতরা লুণ্ঠনকারী হবে; এমন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেখতে চায় না। আমরা ক্ষমতায় গেলে টাকার বিনিময়ে বিচার বিক্রয় হবে না। জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের সদস্যদেরসহ সম্পদের হিসাব রাখা হবে। এগারো দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠন করলে তাদের সংসদ সদস্যরা অনেক বৈধ সুবিধাও গ্রহণ করবে না জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের টাকায় ট্যাক্সবিহীন গাড়ি ও স্বল্পমূল্যে প্লট আমরা গ্রহণ করব না। উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্ত্রাস কবলিত জনপদ দেখতে না চাইলে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিন। এগারো দল কৃষিভিত্তিক কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করবে, যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে এবং আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদের সঞ্চালনায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যের ফাঁকে হবিগঞ্জের চারটি আসনে এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীরা যথাক্রমে সিরাজুল ইসলাম (রিকশা), আব্দুল বাছিত আজাদ (দেয়াল ঘড়ি), কাজী মহসিন আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং আহমদ আব্দুল কাদের (দেয়াল ঘড়ি) প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। জামায়াত আমির বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে চা-বাগানকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে এবং তাদের সন্তানদের শতভাগ শিক্ষার আলোর নিচে আনা হবে। তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে মেডিকেল কলেজ হয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ধার করা ক্যাম্পাসে চলছে। এগারো দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে এগুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে নিয়ে জনবল তৈরির কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর আগে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন দিক থেকে পাঁচ থেকে দশ জন করে দলে দলে কর্মী-সমর্থকেরা নিউফিল্ডে এসে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরে কানায় কানায় পূর্ণ হয় জনসভাস্থল। গতকাল শনিবার শহরের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দিন হওয়ায় কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী।



