জ্বালানি তেল নিয়ে যশোরে হুলুস্থুল : পাম্পে ভিড়

যশোর ব্যুরো ঃ জ্বালানি তেল নিয়ে যশোরে রীতিমতো হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেল সংকট হতে পারে আশংকায় সাধারণ মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য তেল মজুদ করতে ভিড় করছেন পাম্পগুলোতে। তবে, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির যশোর জেলা সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। যুদ্ধের কারণে সংকট হতে পারে আশংকা থেকে মানুষ মজুদ করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। তিনি অহেতুক কাউকে গুজবে কান না দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ না করার জন্য পাম্প মালিকদেরকে কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাও। শুক্রবার (০৬ মার্চ) শহরের কয়েকটি পাম্পে তেল কিনতে আসা মোটরসাইকেল চালকরা জানান, ইরান-ইসরাইল-আমেরিকার চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে আশংকায় অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে হঠাৎ করেই পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে। পাম্প মালিকরা জানান , গত তিন দিন ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পাম্পে স্বাভাবিক সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদা প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা। এ পরিস্থিতিতে চালক ও সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাধ্য হয়ে অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ একবারে দুইশ’ টাকার বেশি তেল না নেওয়ার জন্য ক্রেতাদের অনুরোধ করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো বাহনে বা পাত্রে তেল সরবরাহ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ অতিরিক্ত তেল মজুদ করতে না পারে। যশোর শহরের মণিহার এলাকার ‘যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিস’র সহকারী সুপারভাইজার পলাশ বলেছেন, গত কয়েকদিন থেকে পাম্পটিতে প্রচুর ভিড়। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদের সংখ্যাই বেশি। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শংকা থেকে অনেকে বেশি করে তেল কিনছেন। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিকেল থেকে এই পাম্পটির সামনে মোটরসাইকেলের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রত্যেকেই ট্যাংকি পুরো ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে পাঁচ লিটারের ক্যানে করে অতিরিক্ত পেট্রোল নিচ্ছেন। অনেকে হাজির হন ৪০ লিটারের ড্রাম নিয়েও। ঢাকা রোড তালতলা এলাকার মেসার্স মনিরউদ্দিন আহমেদের ম্যানেজার এএসএম খালিদ জানান, বুধবার (০৪ মার্চ) রাত থেকে অনেক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মোটরসাইকেলের মালিকরা পুরো ট্যাংক ভরে তেল নিয়ে রাখছেন। যশোর শহরের আশপাশের এলাকা এবং অন্যান্য উপজেলা থেকেও একই ধরনের সংবাদ পাওয়া গেছে। জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি যশোর জেলা সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, ‘স্রেফ প্যানিক থেকে মানুষের মধ্যে তেল মজুদ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। দেখা গেছে যে বাইক চালক হাফ বা এক লিটার তেল কিনতেন, তিনিও বাইকের ট্যাংকি ফুল করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ক্যান বা ড্রাম নিয়েও পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন’। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে যশোরের জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- যানবাহন ছাড়া ক্যান, ড্রাম বা অন্য কোন কিছুতে তেল বিক্রি করা যাবে না। রাতের একটা নির্দিষ্ট সময় পর অতিব গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি বন্ধ করা হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হবে না। কৃষকদেরকে সেচ কাজের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন হলে নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়ি, থানায় যোগাযোগ করে স্লিপ নিয়ে তা পাম্প থেকে কিনতে হবে। একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছেন, পাস্পগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা যাবে না। যানবাহন ছাড়া অন্যান্য পাত্রে যাতে কেউ নিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পরিবেশক সমিতির কয়েকজন নেতার সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, যুদ্ধের অজুহাতে এজেন্সির লাইসেন্সধারীদের অনেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিভাগীয় ডিপো থেকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করে বাইরে অধিক মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এগুলো তারা করছেন যারা নিকট অতীতে কখনো তেল উত্তোলন করেননি। এতে সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বিবেচনায় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির অনুরোধে ডিপো কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসেন্সির লাইসেন্স আছে এমন ব্যক্তিদের তেল উত্তোলনের রেকর্ড দেখে তাদেরকে এই সময়ে তেল সরবরাহ করা হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



