তালায় প্রকাশ্যে মা ও বোনকে পেটালো কুলাঙ্গার ছেলে : জনমনে ক্ষোভ

তালা প্রতিনিধি ঃ গাভী গরু চুরির প্রতিকার পেতে থানায় অভিযোগ করায় মা ও বোনকে বেদম মারপিট করলো কুলঙ্গার ছেলে। এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে মা ও বোনকে মারপিট করার সময়ে কুলঙ্গার বাবলু শেখকে চড়, থাপ্পড় মারে রাস্তার পথচারীরা। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে তালা থানার সামনে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের নাজিম উদ্দীন শেখ’র ছেলে বাবলু শেখ বিয়ের পর থেকে সুজনশাহা গ্রামে শশুর বাড়িতে বসবাস করে। নাজিম শেখের ছোট ছেলে লাভলু শেখ জানান, তার ভাই বাবলু কারনে অকারনে বাবা, মা ও বোনদের প্রায়ই মারপিট করে। যে কারনে বড় ভাই বাবলু বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে সুজনশাহা গ্রামে শশুর বাড়ি বসবাস করে। বিগত কিছুদিন ধরে সে মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে আসছিল। কিন্তু মা সেই টাকা না দেয়ায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরইমধ্যে ১৩ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে বাড়ি থেকে মায়ের প্রায় ১ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি গাভী গরু চুরি হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোজ খবর নেবার একপর্যায়ে গরুটি সুজনশাহা গ্রামে বড় ভাই বাবলু শেখের শশুর বাড়িতে পাওয়ায় যায়। গরুটি বড় ভাই বাবলু শেখ চুরি করে শশুর বাড়িতে নিয়ে রেখেছে- এতথ্য জানার পর মা এবং আমার বোনেরা ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই সমেয় তাদের মারপিট করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ঘটনার প্রতিকার পেতে আমার মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে তালা থানায় ছেলে বাবলু শেখের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে। থানা পুলিশ বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য বাবলু শেখকে বারবার বললেও সে থানায় হাজির না হয়ে পুলিশ ও আমাদের বিরুদ্ধে নানান কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তালা থানার ওসি নিজে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ৬ মার্চ থানায় সালিসে বসেন। এসময় তালা থানার ওসি গরুটি থানায় হাজির করার জন্য বাবলু শেখকে নির্দেশ দিয়ে শনিবার (৭ মার্চ) আবারও সালিসের তারিখ নির্ধারন করেন। কিন্তু এদিন বাবলু শেখ থানায় গরু না এনে একা আসে এবং সালিস শুরু হবার আগেই মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় বোন ফরিদা বেগম মাকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে বাবলু শেখ তাকে থানার সামনে রাস্তার উপর ফেলে বেদম পেটাতে থাকে। তখন আমার মা হাসিনা বেগম আমার বোনকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে কুলাঙ্গার বাবলু শেখ মাকে-ও বেদম মারপিট করে। এসময় ঠেকাতে যেয়ে আমার বোন মারুফা বেগম-ও আহত হয়। এসময় তাদের ডাক চিৎকারে থানা পুলিশ এগিয়ে না আসলেও পথচারীরা এগিয়ে এসে বাবলুকে চড়-থাপ্পড় মারে এবং মা ও বোনদের উদ্ধার করে।
লাভলু শেখ জানান, বড় ভাই বাবলু শেখের পিটুনিতে বোন ফরিদা বেগম গুরুতর আহত হলে তাকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় বড় ভাই বাবলু শেখ’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
এঘটনায় তালা থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময়ে আমি থানার বাইরে ছিলাম। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে দ্রুততার সাথে বাবলুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ্এদিকে, রোজাদার মা ও বোনদের মারপিট করার ঘটনা জানাজানি হলে এবং ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করে।



