স্থানীয় সংবাদ

খুলনা সওজ’র লাউডোব ফেরিঘাট ইজারার চড়া মূল্য

# ইজারা মূল্যের চেয়ে ১৩৯০ গুন বেশি কোটেশন #
# অতিরিক্ত মূল্যে জনভোগান্তির শংকা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ফেরিঘাটে নির্ধারিত ইজারা মূল্যের চেয়ে ১৩৯০ গুন বেশি কোটেশন দিয়েছে নকশি বাড়ি ইন্টারন্যাশন্যাল নামে একটি ইজারা প্রতিষ্টান। অতিরিক্ত মূল্যে’র প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বলে শংকা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। এদিকে জেলার বিভিন্ন ফেরিঘাটে ইজারার নামে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছে ভূক্তভোগীরা। স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, বর্তমানে সরকার নির্ধারিত হারের তুলনায় বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এরপরে যদি কেউ অতিরিক্ত টাকায় কোটেশন দিয়ে ইজারা নেয়, তাহলে-তো জনভোগান্তি বাড়বে ছাড়া কমবে না। বেশি টাকার প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপরে। জানা গেছে, খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ফেরিঘাটটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরসহ পরবর্তী তিন বছরের জন্য এ ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপারের টোল আদায়ের লক্ষ্যে মোট পাঁচবার কোটেশন আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে প্রথম আহ্বানে কোনো কোটেশন জমা না পড়লেও পরবর্তী আহ্বানগুলোতে সীমিতসংখ্যক দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চতুর্থ আহ্বানে অংশ নেওয়া নকশিবাড়ি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ফেরিঘাটটির জন্য ২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করে। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ শতাংশ আয়কর ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা যুক্ত হয়ে মোট ইজারা মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। যা নতুন ইজারা মূল্য আগের তুলনায় প্রায় ১৩৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি এবং বিভাগীয় জরিপ কমিটির নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও প্রায় ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। এ কারণে ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপারে টোলের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সুযোগ নিয়ে কিছু সরকারি-বেসরকারি নামধারী চক্র বিভিন্ন ফেরিঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত করে টোল আদায়ে স্বচ্ছতা ও সরকার নির্ধারিত হার কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, ঘাটটি গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। টোলে অনিয়ম থাকলে কতৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করেন।
অতিরিক্ত কোটেশন দেয়া নকশি বাড়ি ইন্টারন্যাশন্যালের স্বতাধিকারি মনিরুল ইসলাম জানান, বেশি মূল্য ইজারা দিলেই অতিরিক্ত টোল নিতে হবে বিষয়টি তেমন নয়। আমরা অবশ্যই নিয়ম মেনে টোল নেবো। তবে ইজারায় অতিরিক্ত টাকায় কোটেশন দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
সওজ’র খুলনা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, আমাদের পরিচালিত কোনঘাটেই অতিরিক্ত টোল নেয়া হয় না। যদি কোন ঘাটে অতিরিক্ত টোল নেয়ার প্রমান মিলে, আমরা তার যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button