রামপালে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ : এক পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১৪ জন নিহত

বাগেরহাট / মোংলা প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোংলা- খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রীজ এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌ বাহীনির লিবার্টি বাসের সাথে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। প্রর্ত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে খুলনাগামী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি লিবার্টি বাসের সাথে উক্তস্থানে বিপরীত দিক হতে আসা একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা ১২ জন যাত্রীর সকলেই নিহত হয়েছেন।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নৌবাহিনীর লিবার্টি বাসের ৫/৬ জন আরোহী আহত অবস্থায় মোংলা নৌবাহিনী হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাদের অবস্থা শংকামুক্ত। কাটাখালী হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএন-১৭৮ নম্বর একটি বাস বিকেল ৪ টার দিকে বানৌজা মোংলা হতে খুলনায় বসবাসকারী লিবার্টি ম্যানদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে বাসটি খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক হতে আসা মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। কাটাখালি হাইওয়ে থানার এসআই কেএম হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। হতাহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে সাতক্ষিরায় বিয়ে দিয়ে ছেলে বউসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে মোংলায় আসার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনা হয়। আর মাইক্রোবাসের সকলেই নিহত হন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত চার জনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ৮ জনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে ৩জন শিশু, ৩জন নারী আর দুজন পুরুষ। আরেক জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে তিনিও মারা গেছেন।



