সাব-রেজিস্টার নাহিদের খুঁটির জোর কোথায়?

# ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্টার : দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক সংবাদ প্রচার হলেও পদক্ষেপ নেইনি কর্তৃপক্ষ #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার ডুমুরিয়া সাব- রেজিস্টারের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ প্রচার হলেও এখনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত এই সাব-রেজিস্টার মো নাহিদুজ্জামানের খুঁটির জোর কোথায়? সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে নাহিদের ঘুষ বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ নাহিদুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। একটি জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক কে মামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “দলিল লেখকগণ আমার পক্ষে সাক্ষী দেবেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ বন্ধ করতে অর্থের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দলিলে সামান্য ভুল বা বানানের অজুহাত দেখিয়ে রেজিস্ট্রি আটকে দেওয়া হয়। পরে দালাল ও অফিস সংশ্লিষ্ট কিছু লোকজনের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। স্থানীয় দলিল লেখকদের একটি অংশের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রারের ঘনিষ্ঠ এর মাধ্যমে অনেক সময় টাকা লেনদেন হয়। টাকা দিলে আটকে থাকা দলিল দ্রুত রেজিস্ট্রি হয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর আগে খুলনা বয়রা থেকে আসা গোলাম রাসুল, নিজ ক্রয়কৃত জমি বিক্রি করার জন্য গেলে, তার নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি ৷সুত্র জানায়, ডুমুরিয়া উপজেলার মৈখালী সাহস এলাকার বাসিন্দা মোঃ জামাল শেখ (পিতা: কাশেম শেখ, মাতা: মোমেনা বেগম) ও তার ভাই মোঃ আলাল শেখ জানান, তারা তাদের ০.১১ একর জমি বিক্রির জন্য দলিল করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে নানা অজুহাতে দেরি করা হয়।এদিকে ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামান প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে আসেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে গোপনে আলোচনা করে দলিলে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া অফিসের অপর একজন কর্মচারী বলেন, সঠিক সময়ে অফিসে আসার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময় বারোটা থেকে একটায় এজলাসে বসেন তিনি। জমিটির চৌহদ্দি অনুযায়ী দক্ষিণে গহর আলী শেখ, পূর্বে সরকারি রাস্তা, পশ্চিমে ভদ্রা নদী এবং উত্তরে অন্যান্য জমি রয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো সমস্যা না থাকলেও দলিলে সামান্য ভুল দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। উপজেলা নির্বাচন অফিসার মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঠিক রয়েছে এবং উপজেলা নির্বাচন অফিস কর্তৃক তা সত্যায়িত। এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার জরুরি চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। তাই জমি বিক্রি করতে এসেছি। কিন্তু অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ নাহিদুজ্জামান ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকায় কিছু দলিল রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, ভোটার আইডি করার সময় মুখে দাড়ি না থাকলেও বর্তমানে দাড়ি থাকায় শনাক্ত করতে সমস্যা হয়েছে। তবে, স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ধরনের দলিল পরে গোপনে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে দলিল লেখকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। খুলনা জেলার জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,“বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সরাসরি বদলি করতে পারি না, তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে খুলনা জেলা প্রশাসক বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে তার নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



