জাতীয় সংবাদ

মেঘালয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় দুই মুসলিম যুবক নিহত, মসজিদে আগুন পাশেই অক্ষত মন্দির

# প্রাণভয়ে বহু মুসলিম পরিবারের রাজ্য ছেড়ে পলায়ন #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ভারতের মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় দুই মুসলিম যুবক নিহত, ৩০টিরও বেশি দোকান ভাঙচুর এবং একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। প্রাণভয়ে বহু মুসলিম পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে প্রতিবেশী রাজ্য আসামে আশ্রয় নিয়েছে। গত ৯ মার্চ গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন বিধায়ক এসমাতুর মমিনীন তুরা জেলা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গেলে একদল উপজাতি আন্দোলনকারী তার ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে মারধর করে বলা হয়, “তুই এখানে কেন এসেছিস? আমরা কোনো অ-উপজাতিকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেব না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেঘালয় হাইকোর্ট এক রায়ে অ-উপজাতি প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা সরিয়ে দিয়েছিল, যা স্থানীয় কিছু উপজাতি সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ১০ মার্চ ভোরে পশ্চিম গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চরম রূপ নেয়। এই ঘটনায় খাইরুল ইসলাম এবং আশরাফুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং অন্যজনকে দেশি পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সহিংসতার সময় চিবিনাং এবং তুরা বাজার এলাকায় মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অন্তত ৩০টি দোকান পুড়িয়ে দেয় এবং একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়। মসজিদের ইমামকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পাশের একটি মন্দির সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। নিরাপত্তার অভাবে ১০ মার্চ সূর্য ওঠার আগেই অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ নৌকায় করে নদী পার হয়ে আসামে ঢুকেছেন, কেউবা গহিন জঙ্গলে বা নিরাপদ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, “এলাকায় এখন শুধুই আতঙ্ক। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পুরোপুরি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী ফ্ল্যাগ মার্চ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আগামী ১০ এপ্রিল নির্ধারিত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু উগ্রপন্থি নেতা মুসলিমদের “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিচ্ছেÍ “এই মাটি তোমাদের নয়, এখানে আল্লাহু আকবর চলবে না।” মেঘালয়ের জনসংখ্যার প্রায় ৪.৪% মুসলিম, যাদের একটি বড় অংশ ব্রিটিশ আমল বা দেশভাগের সময় থেকে এখানে বসবাস করছে। সংবিধানে ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে উপজাতিদের বিশেষ অধিকার থাকলেও, অ-উপজাতিদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এই অঞ্চলে বারবার জাতিগত উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button