যুদ্ধের ময়দানে একা হয়ে পড়লেন ট্রাম্প

# মুখ ফিরিয়ে নিল ন্যাটো মিত্ররাও #
# ন্যাটোভূক্ত দেশগুলোর জিজ্ঞাসা, ইরান যুদ্ধে তিনি যদি জিতেই তবে ন্যাটোভূক্ত দেশগুলোকে ডাকছেন কেন? #
# ইসরাইলে আহতের সংখ্যা ছাড়াল ৩,৩৫০ : নিহতের সংখ্যা গোপন করছে দেশটি #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ডুবোচরে আটকা পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নানাভাবে এই যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও নমনীয় হচ্ছে না তেহরান। শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে চায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দেশ। এমতাবস্থায় মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চাচ্ছেন ট্রাম্প, কিন্তু কেউ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে আগ্রহী নয়। এমনকি পশ্চিমা সামরিক জোট-ন্যাটোও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না। ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ন্যাটো মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। একে একে সবাই তার দাবি প্রত্যাখ্যান করছে। ট্রাম্পের জন্য নতুন এক ধাক্কা হিসেবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ‘প্রায় সাতটি’ দেশের সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি ন্যাটোকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি মিত্র দেশগুলো এই সামুদ্রিক পথটি উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তবে এই জোটকে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যতের’ মুখোমুখি হতে হবে। সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল বলেন, ‘আমি দেখছি না যে ন্যাটো এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে পারে। যদি তেমনটি হতো, তবে ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ বন্ধ থাকায় অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ এবং পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই সংকট জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ট্রাম্প যদি ইরান যুদ্ধে জিতেই থাকেন তবে অন্য দেশের সাহায্য কেন চাচ্ছেন? ঃ সপ্তাহখানেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনকে বলেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে কোনো জাহাজ পাঠানোর দরকার নেই, কারণ তিনি ইতোমধ্যেই ইরান যুদ্ধ জিতেছেন। এখন তিনি আমেরিকার ‘বিশেষ ঘনিষ্ঠ’ দেশ, ন্যাটো-সদস্য দেশগুলো, এমনকি চীনকেও আহ্বান জানাচ্ছেন জাহাজ পাঠাতে যাতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া যায়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি সাহায্য না আসে, তাহলে ইউরোপের উপর মার্কিন নিরাপত্তার আশ্রয় এবং তার এই মাসের পরিকল্পিত চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকও বিপদে পড়তে পারে। ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর বার্তা ট্রাম্প দেশকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেননি এবং তিনি বিভ্রান্তিকর বিবৃতিও দিচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যুদ্ধ ইতোমধ্যেই জয়লাভ করেছে। কিন্তু তিনি বলেন এটি তখনই শেষ হবে যখন তিনি নিজের ভেতর তা অনুভব করবেন। যদি বিজয় ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে- কেন ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পরও সৈন্যরা ঝুঁকির মধ্যে আছে? অপরদিকে ইসরাইলে আহতের সংখ্যা ছাড়াল ৩,৩৫০ ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলে অন্তত ৩,৩৬৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেসামরিক ও সামরিক মিলিয়ে অন্তত ৩,৩৬৯ জন আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ইরানের হামলার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪২ জন আহত হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থিতি ইরানের কাছে এখনও উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের স্টক রয়েছে। মার্কিন বিশেষ বাহিনী এগুলো সরাতে পারে, তবে এটি বিপজ্জনক স্থল যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। খার্গ দ্বীপ দখল এটি ইরানের তেলের রপ্তানি কেন্দ্র। এটি দখল করা ইরানের ক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে, তবে বড় মার্কিন ক্ষতি এবং পরিবেশগত সমস্যা হতে পারে।


