জাতীয় সংবাদ

এক এগারোর আলোচিত জেনারেল মাসুদ ৫দিনের রিমান্ডে

মানবপাচার মামলা

প্রবাহ রিপোর্ট : মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে তাকে কড়া নিরাপত্তায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে এই আবেদন জানানো হয়। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় আদালতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, যাকে এক সময় টর্চার (নির্যাতন) করে হত্যা করতে চেয়েছিলেন এই কর্মকর্তা, তিনিই আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মানব পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত ও অন্যান্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এজন্য তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানব পাচার ছাড়াও প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ফেনীতে দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ডিবিপ্রধানের নেতৃত্বে একটি দল বারিধারা ডিওএইচএসের ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
ডিবি জানায়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর তিনটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। ডিবির তথ্যমতে, রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও পরে দল পরিবর্তন করে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা এক-এগারোর সময় আলোচনায় আসেন এবং পরবর্তীতে গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button