ঈদযাত্রার নয়দিনে দূর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৩৫ জনের

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ এবারের ঈদযাত্রার নয়দিনে সারাদেশে অন্তত ২৬৯টি সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩৫ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে, গতকাল ট্রেনে কাটা পড়ে টাঙ্গাইলে শিশুসহ ৫জন নিহত হয়েছে এবং গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নদীতে পড়ে গেলে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৭ মার্চ দুপুর থেকে ২৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত আট দিনে অন্তত ২৬৮ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়। নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঈদযাত্রায় অন্তত দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, জানুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৫৯টি। নিহত ৪৮৭ জন এবং আহত ১ হাজার ১৯৪ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৬৮ জন এবং শিশু ৫৭। ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন। অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে চারটি নৌ-দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং সাত জন আহত হয়েছেন। ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫১৭টি। নিহত ৪৩২ জন এবং আহত ১০৬৮ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৫৬, শিশু ৬২। ১৮৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৭৪ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৪ জন, অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। এই সময়ে ৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। ৪৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, গত জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ১৫ দশমিক ৭০ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৫ দশমিক ৪২ জন। এই হিসেবে এই দুই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমেছে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমার এ হার কোনো টেকসই উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না। কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি নেই। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, কেবল ঈদযাত্রার এই কয়দিনে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও মার্চ মাসের মৃত্যুর পরিসংখ্যান এখনও ফাউন্ডেশন প্রকাশ করেনি। প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এতে এই মাসে মৃতের সংখ্যা জানা যাবে। এ সময় এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে যানবাহন ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কারের সুপারিশও করেন।



