জাতীয় সংবাদ

ত্রিমূখী হামলা : দিশেহারা ইসরায়েল

দুবাইয়ে ইরানের হামলায় ৫ শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত!

প্রবাহ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একযোগে তিনটি ভিন্ন দিক থেকে হামলার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ইরান, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর আক্রমণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে জেরুজালেমের কাছে ইশতাওল শহরে ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।
সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ক্লাস্টার বোমা নয়, বরং সাধারণ ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। এই হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় ভবন ও একটি পার্কিং লটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এরই মধ্যে, শনিবার সকালে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী দক্ষিণ ইসরায়েলের বীরশেবা ও আশপাশের এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে। হুতিরা দাবি করেছে, তারা “সংবেদনশীল ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলো” লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
হুতিদের এই হামলা আসে তাদের একদিন আগের হুঁশিয়ারির পর, যেখানে তারা জানিয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন কোনো জোট গঠিত হলে বা লোহিত সাগর ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘প্রয়োজনে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আমরা প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে। শুক্রবার ও শনিবার রাতভর সংঘর্ষে দুইজন সেনা গুরুতর আহত এবং সাতজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন। এক ঘটনায় হিজবুল্লাহর ছোড়া অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রে দুইজন কর্মকর্তা আহত হন। অন্যদিকে, রাতের হামলায় রকেট ও ড্রোন হামলায় আরও কয়েকজন সেনা আহত হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসঙ্গে তিনটি ফ্রন্টে হামলার এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনা দ্রুত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের আধা সরকারি সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেন, ‘আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, (ইরানের) সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত হামলা এবং এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার কারণে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ঘাঁটি থেকে পালিয়ে বাইরে লুকিয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় তাদের দুটি গোপন আস্তানা শনাক্ত করা হয়েছে। দুবাইতে অবস্থিত প্রথম আস্তানাতে ৪০০ জনেরও বেশি এবং দ্বিতীয়টিতে ১০০ জনেরও বেশি সদস্য ছিল। ইরানের ইসলামিক বিপ্লাবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনীর নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে উভয় আস্তানাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার ফলে তাদের ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।’
মুখপাত্রের আরও দাবি করেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে মৃত ও আহত আমেরিকান কমান্ডার এবং সৈন্যদের পরিবহনে ব্যস্ত রয়েছে’।
জোলফাগারি সতর্ক করে বলেন, ‘ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের অবশ্যই পুরোপুরি বুঝতে হবে যে, এই অঞ্চলটি মার্কিন সৈন্যদের জন্য একটি কবরস্থানে পরিণত হবে এবং ইরানের বীর জনগণ ও ইসলামের সাহসী যোদ্ধাদের ঐশ্বরিক ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’
এরআগে শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি) পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, যে-সব এলাকায় মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, সেই অঞ্চল থেকে যেন নাগরিকরা সরে যান। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হয়নি ওই হুঁশিয়ারিতে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে
এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান। সূত্র: তাসনিম নিউজ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button