যশোর পেট্টোল পাম্প গুলিতে জ্বালানী তেল সংগ্রহে মোটর সাইকেল আরোহীদের লম্বা লাইন?

# অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেনীর ব্যক্তি প্রতিনিয়ত মজুতের টার্গেটে পাম্পগুলিতে ভিড় করছে #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোরের পেট্টোল পাম্প গুলিতে জ্বালানী তেলের জন্য দৈনন্দিন মোটর সাইকেল আরোহীদের লম্বা লাইন নিয়ে সব পেশার মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। পেট্টোল ও অকটেন সরবরাহের ক্ষেত্রে পাম্পগুলিতে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে নানা বক্তব্য পাওয়া গেছে। দৈনন্দিন লম্বা লাইনের শেষ কোথায় এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে যশোরে অবস্থিত পেট্টোল পাম্প গুলিতে জ্বালানী তেল সংগ্রহের জন্য মোটর সাইকেল আরোহীদের অবস্থান নিয়ে অনুসন্ধানে নামা হয়। প্রতিদিন যশোর শহর ও শহরতলী ও জেলার বিভিন্ন মহাসড়কে অবস্থিত পেট্টোল পাম্প গুলিতে জ্বালানী তেল হিসেবে পেট্টোল ও অকটেন সরবরাহ করা হয়। পাম্পগুলির ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন,প্রতিদিন পাম্পগুলিতে যে পরিমানের পেট্টোল ও অকটেন দেয়ার কথা। সেই পরিমানের তেল খুলনা ডিপো থেকে দেয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন পাম্পগুলির চাহিদা অনুযায়ী অনেকাংশে ডিপো থেকে তেল দেয়া হচ্ছে না। নতুন করে সৃষ্টি হওয়া সমস্যার পাশাপাশি মোটর সাইকেল আরোহীদের মধ্যে কতিপয় একটি গ্রুপ প্রতিদিন মোটর সাইকেল নিয়ে যশোর শহর,শহরতলী ও মহাসড়কের বিভিন্ন পাম্পে হাজির হয়ে ৫শ’ থেকে হাজার টাকার বেশী পরিমানের তেল সংগ্রহ করছে। একজন মোটর সাইকেল আরোহী প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে পাম্প গুলি থেকে অধিক পরিমান তেল সংগ্রহ করায় পাম্প গুলিতে কর্মরত কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। পাম্পে কর্মরত তেল সরবরাহে কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা এ প্রতিবেদককে জানান,ইতিপূর্বে যে মোটর সাইকেল আরোহী দৈনন্দিন ৫০ থেকে ১শ’ টাকার জ্বালানী তেল পেট্টোল ও অকটেন সংগ্রহ করতো। বর্তমানে তারা দৈনন্দিন ৫শ’ টাকার তেল সংগ্রহ করছে। প্রতিদিন ৫শ’ টাকা হারে পেট্টোল ও অকটেন সংগ্রহ করায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিদিন পাম্প গুলি থেকে জ্বালানী তেল সংগ্রহের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানী তেলের উপর প্রভাব পড়ার খবরে এক শ্রেনীর নিন্ম আয়ের মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা অধিক মুনাফার আশায় শত শত লিটার জ্বালানী পেট্টোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। তাই প্রতিদিন পাম্প গুলিতে লম্বা লাইন সৃষ্টি করে জ্বালানী তেল সংগ্রহে তারা হাজির হচ্ছেন। সংগ্রহকৃত জ্বালানী তেল বাড়িতে মজুত করছেন। পরে অধিক মুনাফায় বিভিন্ন মোটর সাইকেল,ভ্যাসপা আরোহীদের কাছে বিক্রি করবে। বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা গেছে, দেশের কয়েকটি জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় ওই জেলার ছোটখাটো যানবাহনের মালিকেরা জ্বালানী তেল সংগ্রহের জন্য যশোর জেলায় ঝাপিয়ে পড়ছে। যার ফলে লম্বা জ্বালানী তেল সংগ্রহের লাইন দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু তাই নয় অধিক মুনাফার আশায় যারা জ্বালানী তেল সংগ্রহে প্রতিদিন পাম্প গুলিতে হাজির হচ্ছেন তারা তাদের পরিবারের মাধ্যমে পেট্টোল লিটার প্রতি ১১৬ টাকা সংগ্রহ করে বিক্রি করছে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা। যশোরের বিভিন্ন উপজেলার পাশে সড়কে ও পাড়ায় মহল্লায় খুচরা মূল্যে জ্বালানী তেল বিক্রি হচ্ছে হরহামেশায়। যেখানে দেশের মানুষ ন্যায্য মূল্যে জ্বালানী তেল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে অসাধু চক্র রাতারাতি অধিক মুনাফার মালিক হওয়ার আশায় জনগনকে জিম্মিতে নেমে পড়েছে। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যশোরের সব পেশার মানুষেরা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



