মুখে খেয়ে পায়ুপথে ইয়াবা সরবরাহ : গ্রেপ্তার ৪ যুবক

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়া ইয়াবা ট্যাবলেট মুখে খেয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে মলত্যাগের মাধ্যমে তা বের করে বিক্রি করত একটি চক্র। এমন কৌশলে মাদক সরবরাহকারী এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বান্দরবানের মেঘলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৫, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মেহেদী আলম। তিনি বলেন, ৩ মে রাতে র্যাব-১৫-এর মাদকবিরোধী অভিযানে বান্দরবান সংলগ্ন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ঠাকুরদিঘী বাজারের টাইম ক্যাফে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে মাদককারবারি ও চক্রের অন্যতম হোতা জিয়াউর রহমান (৩৫), মো. সাকের, আবু তৈয়ব (৩৫) ও জাফর মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাদের পেটে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা ও এক্স-রে রিপোর্ট পর্যালোচনা করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর তাদের পেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ২০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট পায়ুপথে নির্গত মল থেকে জব্দ করা হয়। র্যাব জানায়, একেকজন প্রায় ১০০টির মতো ছোট পুঁটলি আকারে ইয়াবা গিলে ফেলে, যা পেটে জমা থাকে। তারা এভাবে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ইয়াবা বহন করতে পারে। পরে লোকাল বাস ও সিএনজিযোগে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে মলত্যাগের মাধ্যমে পুঁটলিগুলো বের করে। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে তারা সবজি দিয়ে পেট ভরে ভাত খায় এবং একটি সিরাপ সেবন করে। কোম্পানি অধিনায়ক বলেন, আসামিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সাধারণ যাত্রীর আড়ালে তারা এই চালান পাচার করছিল এবং নিয়মিত এভাবে মাদক পরিবহন করত বলেও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তিনি আরও জানান, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। গ্রেপ্তার চার আসামিকে আইনি কার্যক্রম শেষে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



