নগরীর বয়রা শ্মশান ঘাট এলাকায় খালের জায়গা দখল করে বাসভবন নির্মাণ

কেসিসি বলছে- উচ্ছেদ করে ফুটপাত নির্মাণ করা হবে
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর বয়রা শ্মশান ঘাট এলাকায় খুদিয়ার খালের উত্তর পাশে মনোয়ারা বেগম সড়ক লাগোয়া স্থানে খালের জায়গা দখল করে একাধিক বাসভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মৃত মনসুর আলীর ছেলে-মেয়েরা উল্লিখিত জমি দখল করে রেখেছেন। এমনকি তাদের বাড়ির ভিতরে কেসিসির খালের সীমানা পিলার থাকলেও তা ভেঙ্গে ও আড়াল করে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি কেসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অবহিত থাকলেও রহস্যজনক কারণে সরকারি ওই জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়নি। ফলে জায়গার অভাবে এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষা করতে গিয়ে মনোয়ারা সড়কটি অনেকটা সংকুচিত ও সরু করা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে, বিষয়টি এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এখন বলা হচ্ছে- অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখল মুক্ত করে সংশ্লিষ্ট জমিতে পায়ে হাঁটার রাস্তা নির্মাণ করবে কেসিসি। সম্প্রতি কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বয়রা শ্মশান ঘাটের পশ্চিম এবং খুদিয়ার খালের উত্তর দিকে মনোয়ারা বেগম সড়কের পাশ দিয়ে স্থানীয় মনসুর আলীর সন্তানরা খাল ও সড়কের একটি বড় অংশের জমি দখল করে রেখেছেন। বর্তমানে সেখানে একটি তিনতলা ও একটি দ্বিতীয়তলা বিশিষ্ট ভবন এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি মামলার কথা বলে বছরের পর বছর সরকারি জমি দখল করে রেখেছেন তারা। বিশেষ করে মনসুর আলীর ছেলে শেখ মিরাজুল ইসলাম, জিয়াউল ইসলাম, জিহাদুল ইসলাম ও জামাই জিয়া উল্লেখিত জমি ভোগ দখল করছেন। তাদের দ্বিতীয়তলা বিশিষ্ট বাড়ির আনুমানিক ১০-১২ ফুট ভিতরে কেসিসির একটি সীমানা পিলারও দেখা যায়। যেটি খুব কৌশলে আড়ালের চেষ্টা করে ছোট করে রাখা হয়েছে। যাতে বাইরে থেকে দেখা না যায়। এমনকি বাড়ির পশ্চিম অংশে আরো একটি পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছে। যার রডও বের হয়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে, সম্প্রতি খুদিয়ার খালের উত্তর পাড়ের মনোয়ারা বেগম সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু পাশ্ববর্তী জমি থেকে অবৈধ দখলদারমুক্ত না করেই নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার ফলে সড়কটি সরু করা হচ্ছে। এমনকি দ্বিতল বিশিষ্ট মনসুর আলীর মেয়ে- লজামাইয়ের বাড়িটি রক্ষা করতে গিয়ে বাক নিয়ে সড়কটি আরো সরু করা হয়েছে। ফলে সেখান থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে এ বিষয়ে তারা কেসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১৬ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেসিসির প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী খাল ও সড়কের জমি বেদখলের বিষয়টি অবহিত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি।
যদিও এ প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে প্রকৌশলী অনুপম বলেছেন, এই জমি নিয়ে মামলা আছে বলে শুনেছেন তিনি। তবে আদৌ মামলা আছে কি-না বা মামলার বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা কি তাও জানাতে পারেননি তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট জমি থেকে কেসিসির পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। বলেন, এ বিষয়ে স্টেট শাখা থেকে পরিমাপ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অবৈধ দখলদাররা ওই জমিতে আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আছে বলে দাবি করলেও তারা কোন কাগজ দেখাতে পারেনি।
গত শনিবার সড়কের কাজ পরিদর্শনে গেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে এলাকাবাসী বিষয়টি অবহিত করে অবৈধ স্থাপনা অনুচ্ছেদের দাবি জানান।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেছেন, উল্লেখিত জমির বিষয়ে স্টেট শাখার মতামত চাওয়া হয়েছে। ওই জমির মামলাসহ সর্বশেষ অবস্থা জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সরেজমিনে দেখেও এসেছেন। এ বিষয়ে মেপে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উল্লেখিত জমি উদ্ধার করে সেখানে ফুটপাত নির্মাণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মনসুর আলীর দুই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সেলফোন রিসিভ করেননি।



