স্থানীয় সংবাদ

কুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের ভিপি, জিএস এবং সিআর-দের সাথে ভাইস-চ্যান্সেলরের মতবিনিময়

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-কে একটি নিরাপদ, আধুনিক এবং বিশ্বমানের স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৪ মে) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিভিন্ন বিভাগের ভিপি, জিএস এবং সকল বর্ষের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভদের (সিআর) উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, একাডেমিক কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এর অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে এবং অবস্থানকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গভীর রাতে হলের বাইরে চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা ও এলাকাভিত্তিক সময় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়। ক্যাম্পাসকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। এই এক কার্ডের মাধ্যমেই লাইব্রেরি, মেডিকেল ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেবা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতিতে শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে উত্তরপত্রে ‘ইউনিক কোডিং সিস্টেম’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৫ ব্যাচ থেকে মিডটার্ম পরীক্ষা ও নতুন নম্বর বণ্টন পদ্ধতি সম্বলিত আধুনিক একাডেমিক কারিকুলাম কার্যকর হবে। বর্তমান ২১-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এই নতুন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ছাত্রীদের জন্য এবং দেড় বছরের মধ্যে ছাত্রদের জন্য পৃথক দুটি ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক হল চালু করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রশিদ ও ফজলুল হক হল ভেঙে সেখানে ইইই, সিই ও এমই বিভাগের জন্য তিনটি দৃষ্টিনন্দন ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণার মানোন্নয়ন ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের জন্য গবেষণা ও স্টাডি ট্যুরের বাজেট বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ক্যাফেটেরিয়ায় মানসম্মত রেস্টুরেন্ট, অডিটোরিয়ামের পাশে আধুনিক ফার্মেসি ও সেলুন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের দ্রুত ডিএসডব্লিউ অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ক্যাম্পাসে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে আইন নিজের হাতে না তুলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। তোমাদের সহযোগিতায় আমরা কুয়েটকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ইনোভেশন হাব হিসেবে গড়ে তুলব।” সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী, উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রাজন কুমার রাহা, উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহমুদুল আলম, সহকারী পরিচালক শাহ মুহাম্মদ আজমত উল্লাহ্।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button