স্থানীয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করতে হবে : অধিকার

স্টাফ রিপোর্টার : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ এই চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদে বিল আনার সুপরিশ করেছে । এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৬ টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এরফলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হিসেবে গন্য হবে এবং আগামী ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারাবে।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের এই প্রক্রিয়ার ব্যাপারে অধিকার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে অংশ নিয়ে ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেন। জনগনের এই বিপুল রায়কে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের দাখিল করা নোট অব ডিসেন্ট অগ্রাহ্য করে বাতিলের সুপারিশ করেছেন। অধিকার স্মরণ করিয়ে দিতে চায় যে, ফ্যাসিবাদী হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। যার ফলে বিরোধীদলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকরা বিচারিক হয়রানী, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গণগ্রেফতার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ণের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময়ে বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চললেও হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ব্যাপারে তখন নিশ্চুপ ছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশ কে শক্তিশালী করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কেও হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধীদের দমন করতে এবং ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল । শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন। তাই এই সব অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করা প্রয়োজন । অথচ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে তা সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানের আদলে ফিরিয়ে নেয়ার দুঃখজনক পায়তারা চলছে।
মানবতা বিরোধী অপরাধ গুম ছিল ব্যাপক। উল্লেখ্য বিএনপি জোটের সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছেন, অথচ হাসিনা সরকার কর্তৃক গুমের শিকার হয়েছিলেন তাঁদের দলের অনেক নেতা-কর্মী। এমনকি তিন জন গুমের শিকার ব্যক্তি যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁরা এবং গুমের শিকার ব্যক্তির স্ত্রী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি ফিরে আসেননি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আজ চরম অনিশ্চয়তায় জীবন পার করছেন।
অধিকার মনে করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার যে সুপারিশ করেছেন তা ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং দেশের জনগনের প্রতি সীমাহীন অন্যায় । মানবাধিকার এবং সুশাসন ছাড়া একটি দেশ কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারে না। তাই অধিকার অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে পাশ করার জন্য প্রধান মন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button