স্থানীয় সংবাদ

জ¦ালানি তেল সংগ্রহে সীমাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা : বিড়ম্বনায় কর্মজীবীরা

শেখ ফেরদৌস রহমান : গেল প্রায় তিন সপ্তাহ যাবৎ খুলনা সহ সারাদেশে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সংগ্রহে লম্বা লাইন থাকছে। পাশাপাশি তেল সরবরাহ ক্ষেত্রে রয়েছে একটি সীমাবদ্ধতা। আর এতে করে কর্মজিবীদের জরুরী কাজের ক্ষেত্রে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা। এমনকি তেল সংগ্রহের জন্য অনেকে ভোর হতে চালকদের অপেক্ষা যানবাহন নিয়ে বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের। শুধুমাত্র কিছু লিটার তেল সংগ্রহের জন্য। এতে করে মূল্যবান কর্মঘন্টার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও উৎপাদনশীলতারও ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষ করে ডেলিভারিম্যান, পরিবহন শ্রমিক, ওষুধ সরবারাহকারী যানবহন, সাংবাদিক ও পুলিশসহ জরুরী কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এমনকি প্রান্তিক কৃষকদেরও জ¦ালানি সংগ্রহ না করতে পেরে ফসলী ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেনা বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া এতে করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজির বাজার অন্যান্য বাজারে বর্তমানে বেশ বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।
এদিকে খুছরা ব্যবসায়িরা বলছে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক সময়ে পরিবহণ আড়ৎে না আসায় সব কিছুর দাম আগের তুলনায় বাড়তি।
এ বিষয়ে কথা হয় মোটর সাইকেল চালক মোঃ তানভীরের সাথে। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। সকালে যেতে হবে পাইকগাছা, আজ তার একটি ভিজিট আছে চিকিৎসকের সাথে, পাশাপাশি কিছু ওষুধ দিতে হবে দোকানে।
তিনি বলেন, আমি সকাল সারে আটটায় সময খুলনা নতুন রাস্তা এ্যলেনা ফিলিং স্টেশনে বসে আছি। এখানে দায়িত্বরতরা বলছেন পৌনে এগারোটা নাগাদ তেল সরবরাহ করা যাবে। আমি একা নই, এভাবে আমার মত আরও শতাধিক বিভিন্ন যানবহন অপেক্ষা করছে তেলের জন্য। আজ হয়তো তেল পেলাম আবারও আগামীকাল তেলের জন্য অপেক্ষা। পাইকগাছ যেয়ে এসে তেল ফুরিয়ে যাবে। প্রতিদিন একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যায় গণপরিবহন চালকদের ক্ষেত্রেও। পরিবহন চালক মোঃ টুকু বলেন, সময় মত তেল নিতে না পারায় আগের তুলনায় টিপ কমে যাচ্ছে। সমস্যা তৈরি সহ নষ্ট হচ্ছে সময়। তবে, বিষয়টি নিয়ে পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছে তেল সরবারাহ সিমাবদ্ধতার কারণে এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে, মধ্যপ্রচ্যে যে যুদ্ধের কারণে জটিলত্ াতৈরি হয়েছে এখন যুদ্ধ বন্ধ। এখন সব স্বভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদি। এর পাশাপাশি পাম্প পরিচালনায় শঙ্খলা ফেরাতে ডিজিটাল টোকেন ব্যবস্থা থাকলে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে।
বিষংয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল টোকেন ব্যবস্থা করে সকলকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করলে এই ভোগান্তি কমবে। এছাড়া সকলকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি কেউ যেন অবৈধ তেল মজুদ না করতে পারে। এছাড়া অনেকের ধারণা ছিল তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। যে কারণে চাহিদার তুলনায় অনেকে বেশি,তেল সংগ্রহ করে মজুদ করেছে। এসব থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button