স্থানীয় সংবাদ

১৬ বছর অনুপস্থিত থেকেও অধ্যাপকের বেতন উত্তোলন, অবশেষে পদত্যাগ

মণিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসা

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের মণিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নুপুর বিশ^াস প্রায় ১৬ বছর যাবত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অবৈধভাবে বেতন উত্তোলন করেন। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে অবশেষে তিনি গত বৃহস্পতিবার চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহসিন আলী। তবে ১৬ বছর অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রীয়া।
জানাযায়,মনিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নুপুর বিশ^াস ২০০৪ সালের ১১ জুলাই যোগদান করেন এবং ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এমপিওভূক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে ২০১০ সালের পর তিনি আর মাদ্রাসায় যাননি। জানাগেছে নুপুর বিশ^াসের স্বামী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) প্রধান কার্যালয়ে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। অবশ্য নুপুর বিশ^াসের স্বামী গতবছর অবসরে যান।
এদিকে নুপুর বিশ^াসের নামে বছরের পর বছর প্রতিমাসে সরকারি বেতনভাতা উত্তোলন করা হচ্ছিল। নুপুর বিশ^াসের এমপিও ইনডেক্স নম্বর ২০১০৬৩৯, তার নামে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেতন উত্তোলন করা হয় ৪৬ হাজার ৬০৭ টাকা। সে হিসেবে ১৬ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার উপরে উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। আর এ টাকা নুপুর বিশ^াসসহ অধ্যক্ষ ভাগবাটোয়ারা করেন বলে মাদ্রাসার নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের অভিযোগ।
তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহসিন আলী বলেন, আমি মাদ্রাসায় যোগদান করেছি ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর। পূর্ববর্তি অধ্যক্ষ ও সভাপতিরা নুপুর বিশ^াসকে এ সুবিধা দেন। তারই ধারাবাহিকতায় নুপুর বিশ^াসের দায়িত্ব পালন করেন মুরাদুজ্জামান নামে বহিরাগত এক শিক্ষক। তাকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়া হয়। বাকী টাকা নুপুর বিশ^াস এবং মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে খরচ করা হয়। এ ব্যাপারে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়ের। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার গর্ভনিংবডির জরূরী সভা আহ্বান করা হয়।
গভর্নিংবডির সভাপতি ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সহকারি অধ্যাপক নুপুর বিশ^াস চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক অহেদুজ্জামান বাদল, অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেনসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদন দাখিল করার পর পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানার জন্য নুপুর বিশ^াসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button